বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:০৪ অপরাহ্ন

রাস্তা সংষ্কারের অভাবে অপূর্ব লীলাভূমি বিলখুকশিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে

উৎপল দে, কেশবপুর / ৬৭
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি যশোরের কেশবপুরে পূর্বাঞ্চলের ৩টি উপজেলার সীমান্তবর্তী অবস্থিত বিলখুকশিয়া। এ বিলের সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির ঘুঘু, দোয়েল, বাটুলে, হাঁস, সাদা বক, মাছরাঙা, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির পাকপাখালি। প্রতিবছর এ বিলের ১৩ শতাধিক মৎস্য ঘের ও ঘেরপাড়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মাছ ও সবজি উৎপাদন হলেও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে নৌকায় তাদের প্রধান ভরশা। এ বিলের মাঝ দিয়ে একটি মাটির রাস্তা দু‘ভাবে ভাগ হয়ে কপালিয়া ও শোলগাথিয়া গিয়ে মিশেছে। মাত্র সাড়ে ৯ কিলোমিটার সড়কটির দু‘পাশে প্লাসেটিং করে পাকাকরণ করা হলে ৩ উপজেলার হাজার হাজার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হতে পারে বিলখুকশিয়া।
পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী কেশবপুর, অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ভায়না ও খুকশিয়ার বিলের ওপর নির্ভরশীল বিলের চারপাশের গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। এ বিলের চারপাশে শোলগাথিয়া, চোহড়া, ভায়না, বরুনা, ময়নাপুর, আড়–য়া, সানতলা, কানাইডাঙ্গাসহ ৩০/৩৫ গ্রামের মানুষ বিলের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাটির রাস্তাটি ব্যবহার করেন। এ বিলে মাছ আরহণ, ঘেরে শ্রম ও পরিত্যাক্ত অঞ্চলে গরু, ছাগল চরাণোর কাজই মানুষের প্রধান পেশা। ¯øুইচ গেটের ওপর দিয়ে অভয়নগরের কপালিয়া বাজারে গিয়ে মিশেছে। ওই বিলের উৎপাদিত মাছ ও সবজি পরিবহনসহ আতœীয় স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতে স্থানীয়রা রাস্তাটি ব্যবহার করেন। এলাকাবাসির ভাষ্যমতে রাস্তাটি ২‘শ বছরের পুরনো। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় তা ঘেরে ধসে নষ্ট হয়ে এখন ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এখন ওই সড়ক দিয়ে ৩ বা ৪ চাকার কোন গাড়ি চলতে পারে না। ফলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিন ধরে বাধ্য হয়ে পায়ে হেটে অথবা নৌকায় চলতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটি পাকাকরণের দাবি এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের।
কেশবপুর উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, বিলখুকশিয়া ও ভায়না বিলের ১২৫০ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ৩৯৭টি মাছের ঘের ও মৎস্য ঘেরের ২৭৬ হেক্টর বেড়িবাঁধে সবজি চাষ হয়। প্রতিবছর এ সমস্ত ঘেরে ৪ হাজার ৩২৩ মেট্রিকটন সাদা, ৬৫৮ মেট্রিকটন গলদা ও ৩৫২ মেট্রিকটন বাগদাসহ মোট ৫ হাজার ৩৩৩ মেট্রিকটন মাছ উৎপাদন হয়েছে। যার স্থানীয় বাজার মূল্য ১১৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতিবছর ঘেরের পাড়ে ও ঘেরের পানির ওপর মাচায় শিম, বরবটি, মেটে আলু, কচু, লাউ, চালকুমড়া, তরমুজসহ ৫ হাজার ৬৭৮ মেট্রিকটন সবজি উৎপাদন হয়। যার স্থানীয় বাজার মূল্য ৩০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এসব ঘের ও বেড়িবাঁধে ফসল উৎপাদনে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মরত থেকে তাদের পরিবারের ভরন পোষণ মিটিয়ে থাকেন। কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় নৌকাই বিলাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমএম আরাফাত হোসেন বলেন, বিলখুকশিয়ার মৎস্য ঘেরে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে রাস্তা ধসে নষ্ট হচ্ছে। কৃষকের স্বার্থে দ্রæত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ