মোতালেব সাহেব মানব সেবা’র জ্বলন্ত উদাহরণ

মোতালেব সাহেব মানব সেবা’র জ্বলন্ত উদাহরণ

লেখকঃ বিশ্বরূপ চন্দ্র ঘোষ

আজ ২ জুন’২০২১ আমার ভালোবাসার কর্মরত প্রতিষ্ঠান দৈনিক কাফেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মরহুম আব্দুল মোতালেব সাহেবের ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী। আমি আব্দুল মোতালেব সাহেবকে কখনও চোখে দেখিনি। কারণ উনি ২০০২ ইং সালে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আমি ২০০৯ ইং সালে উনার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান দৈনিক কাফেলায় কম্পিউটার ডেস্কে কাজ করা শুরু করি। অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন যাকে আমি চোখে দেখিনি কখনও কথাও বলিনি তাহলে তঁার সম্পর্কে আমি কি বা বলতে ও লিখতে পারি? আজ এক যুগেরও বেশি সময় আমি সাতক্ষীরাতে আছি। কম বেশি সভ্য মানুষের সাথে চলার বা মেশার সুযোগ হয়েছে কাফেলা পত্রিকাতে কাজ করার সুবাদে। সেই জায়গা থেকেই আমি যতটুকু অনুধাবন করতে পেরেছি আমার গর্ব প্রয়াত সম্পাদক মরহুম আব্দুল মোতালেব সাহেব সম্পর্কে। ঠিক ততটুকুই আমি তঁার ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে দুই এক কলম লেখার চেষ্টা করছি মাত্র।

মরহুম আব্দুল মোতালেব সাহেব ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রথিতযশা সম্পাদক, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও নিঃস্বার্থ সমাজসেবক। বর্তমান সময়ে অনেক সিনিয়র সাংবাদিকের মুখে শুনেছি সাতক্ষীরার প্রায় সকল সাংবাদিকের হাতে খড়ি দৈনিক কাফেলা পত্রিকাতেই। আমার গর্ব প্রয়াত সম্পাদক আব্দুল মোতালেব সাহেব সাতক্ষীরায় একাধিক পত্রিকা প্রকাশিত হতেও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন। সদ্য প্রয়াত আজকের সাতক্ষীরার সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মোহাসীন হোসেন বাবলু সাহেব তঁার এক বক্তৃতায় বলেছিলেন তার পত্রিকার অনুমোদন পেতে মোতালেব চাচা আমাকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছিলেন। এ থেকেই আমার মনে হলো কত বড় মনের অধিকারী না হলে এই কাজটি করা যায়? অনেক সিনিয়র শিক্ষক মহাশয়দের মুখে শুনেছি সাতক্ষীরার ৩৫০টির বেশি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তন্মধ্যে মাথা উঁচু করে দঁাড়িয়ে আছে সাতক্ষীরা দিবা নৈশ কলেজ, ছফুরননেছা মহিলা কলেজ, কুমিরা মহিলা কলেজ। কতশত মানুষকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে স্কুল কলেজে চাকুরি দিয়ে একটা একটা পরিবারের মুখে হাসি ফঁুটিয়েছেন। আরও অনেকেরই বলতে শুনেছি মোতালেব চাচা বলতেন আমার অভিধানে না বলে কোন শব্দ নেই।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউট, পাবলিক লাইব্রেরি, শিল্পকলা কোথায় তার হাতের ছোঁয়া লাগেনি? এভাবে লিখতে গেলে রাত গড়িয়ে সকাল হবে তবুও তঁার বিশাল কর্মযজ্ঞের সামান্যটুকুও তুলে ধরা সম্ভব নয়। এই উপকুলীয় দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে যখন প্রকৃতির বৈরী তান্ডব চলত তখন দরিদ্র অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতেন আমার গর্ব প্রয়াত সম্পাদক মরহুম আব্দুল মোতালেব সাহেব।

একটা মানুষ নিঃস্বার্থভাবে সাতক্ষীরার মানুষের সেবায় আমৃত্যু ছুটে চলেছিলেন। ইচ্ছা করলে তিনি বিত্ত বৈভবের সাগরে ডুবে থাকতে পারতেন। অথচ দিন শেষে এই মহান মানুষটির গোলপাতা দিয়ে ছাওনি বসার অফিস আহমাদিয়া প্রেসটি শ্বেত পাথর দিয়ে সংস্কার করতে পারিনি। কারণ তিনি যে মানুষের সেবা করে গেছেন। ধুপের মতো নিজে পুড়ে অন্যদের সুগন্ধ বিলিয়েছেন। অথচ আজকের দিনে আমরা কত বড় বড় ডিগ্রী অর্জন করছি। কত বড় বড় ক্ষমতার চেয়ার দখল করে আছি। কত আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিখেছি। কিন্তু আমরা কি পারছি মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে? অতি অল্পদিনে আমরা শ্বেত পাথরের বাড়ি হাকাচ্ছি। পাজারু গাড়ি চড়ছি। আর তথাকথিত মানব সেবায় নিবেদিত প্রাণ প্রতিষ্ঠায় ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজেকে তথা এই সমাজকে কি বিব্রতকর পরিস্থির মুখোমুখি দঁাড় করিয়েছি। হে আমার আদর্শের পুরুষ প্রয়াত শ্রদ্ধেয় সম্পাদক আজকের দিনে আপনার বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করি। দূর থেকে আপনার কৃপা আর্শীবাদ প্রার্থী আপনার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান দৈনিক কাফেলা পত্রিকার অতি সামান্য একজন কর্মী হিসেবে।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন