HEADLINE
কালিঞ্চী এ. গফ্ফার মাধ্যঃ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বন্দে আদালতে মামলা বৈকারীতে ১’শ পিস ইয়াবাসহ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার রাত পোঁহালেই দেবহাটা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ নেতাকে অস্ত্রকান্ডে ফাঁসিয়ে ভারতে পালালেন মূলহোতা নির্বাচন নিয়ে ভাবার কিছু নেই, আমরা গণতান্ত্রিক দল : সাতক্ষীরায় আ.ক.ম মোজাম্মেল হক কুলিয়ায় পানিতে ভাসছে কাফনের কাপড় পরিহিত লাশ সাতক্ষীরায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা: তদন্ত পিবিআইতে সাতক্ষীরায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়ী বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত কলারোয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ২৫ ইভটিজিং প্রতিরোধে আমাদের করণীয়
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

মেটলাইফ ইন্সুরেন্সের বিরুদ্ধে মৃত্যুঝুঁকির টাকা না দেওয়ার অভিযোগ

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা / ১৮৯
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

সাতক্ষীরায় মেটলাইফ ইন্সুরেন্সের স্থানীয় এজেন্ট আলিকো মোড়ল এজেন্সির বিরুদ্ধে মৃত্যুঝুঁকির টাকা না দিয়ে তালবাহানার করার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। শহরের কাটিয়া লঙ্করপাড়ার সাবেক কমিশনার মৃত আবদুস সেলিমের স্ত্রী তানজিমা বেগম সোমবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে মৃত আবদুস সেলিমের তানজিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর (সাবেক প্যানেল মেয়র) ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি বিগত ২০১৮ সালে মেটলাইফ ইন্সুরেন্সের সাতক্ষীরার স্থানীয় এজেন্ট আলিকো মোড়ল এজেন্সির মাঠকর্মী রিজিয়া খাতুন অনুরোধে পাঁচ লক্ষ টাকার মৃত্যুঝুঁকির বিমা পলিসি খোলেন। সে সময় আমার স্বামীর ডান পায়ের সমস্যায় থাকায় তিনি ভারতে যেয়ে চিকিৎসাও গ্রহণ করেন। ইন্সুরেন্স কোম্পানির প্রতিনিধি রিজিয়া খাতুনকে পায়ের সমস্যার বিষয়ে অবগত করালে তিনি ও এজেন্সি ম্যানেজার মোড়ল কামরুজ্জামান বলেছিলেন, কোন সমস্যা নেই এবং মেটলাইফ ইন্সুরেন্স আলিকো মোড়ল এজেন্সির নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল চেকআফসহ পলিসি করার তিন বছরের মাথায় গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে আমার স্বামী কিডনী জনিতরোগে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামী মারা যাওয়ার দিনই মেটলাইফ ইন্সুরেন্সে মাঠকর্মী রিজিয়া খাতুন আমার স্বামী পলিসির সকল কাগজপত্র নিয়ে যায় এবং দ্রæত মৃত্যুদাবিরর টাকা পরিশোধ করা হবে বলেন জানান।

তিনি আরও বলেন, কাগজপত্র প্রেরণের ১৫ দিন পর ঢাকা থেকে আল আমিন নামের একজন মেটলাইফ আলিকো ইন্সুরেন্সের প্রতিনিধি আমাদের বাড়িতে এসে আমার স্বামীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখে চলে যান। দুই মাস অতিবাহিত হলেও টাকা না দিয়ে নানারকম তালবাহানা শুরু করেন। গত ৯ ফেব্রæয়ারি ২০২২ তারিখে কোম্পানি থেকে একটি চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে আমার স্বামী পলিসি করার পূর্ব থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তিনি ভারতে একাধিকবার চিকিৎসা করিয়েছেন। ফলে বীমা পলিসির নীতি ভঙ্গ হয়েছে। অথচ আমার স্বামীর ডান পায়ের সমস্যা ছিলো। তিনি পায়ের রোগে মারা যাননি। কিডনীজনিত রোগে মারা গেছেন। যার সকল কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। সে সময় মাঠকর্মী রিজিয়া খাতুন বিষয়টি জেনেছিলেন এবং এজেন্সি ম্যানেজার মোড়ল কামরুজ্জামানকেও অবগত করিয়েছেন। ওই সময় তারা আমার স্বামীর মেডিকেল চেকআপের রিপোর্টের ভিত্তিতে বীমা পলিসি করেছিলেন ছিলেন। কোম্পানির নিয়ম ইন্সুরেন্স করাতে হলে অবশ্যই মেডিকেল চেকআপ করতে হবে। যদি সমস্যা হবে তারা সে সময় কেন ইন্সুরেন্স করালেন। আমার স্বামী ২০২১ সালের মার্চ মাসের ৩০ তারিখে অসুস্থ হওয়ার পরে আমরা জানতে পারি তিনি কিডনী রোগে আক্রান্ত। আমার স্বামী মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন না। তিনি ২১ সালের ১৪ ফেব্রæয়ারিতে পৌরসভা নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছেন। তিনি মারাত্মক অসুস্থ হলে নির্বাচনে অংশ নিতেন না। আসল কাগজপত্র নিয়ে সহযোগিতা তো দূরের কথা এজেন্সি মোড়ল কামরুজ্জামান ও তার মাঠকর্মী রিজিয়া খাতুন বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি কাগজপত্রের ফটোকপিও দিচ্ছেন না। তারা এখন শুধুমাত্র আমার স্বামীর জমাকৃত টাকা ফেরত দিতে চান। মৃত্যুবীমা করা হয় বা মৃত ব্যক্তির পরিবার সাতে তার মৃত্যুর পর মৃত্যুঝুঁকির টাকা পরিবার পায়। কিন্তু তারা এখন সেই টাকা না দিতে নানারকম কথা বলছেন। বর্তমানে স্বামীর মৃত্যুর পর এতিম সন্তানদের নিয়ে অসহায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমাদের মানসিক প্রতিবন্ধী একমাত্র ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এই সংকটকালে আমি স্বামীর লাইফ ইন্সুরেন্সের মৃত্যুঝুঁকির টাকা পেতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রæত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় মৃত আবদুস সেলিমের স্ত্রী তানজিমা বেগম, তার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মেটলাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির মাঠকর্মী রিজিয়া খাতুন ও স্থানীয় এজেন্সি ম্যানেজার মোড়ল কামরুজ্জামানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ