শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

মুজিবর্ষের উপহার হিসাবে হাড়দ্দাহ আশ্রয়ণ প্রকল্প এক অনন্য দৃষ্টান্ত

খলিলুর রহমান / ৫০
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১

সুফিয়া বেগম(৪৫)স্বামী সন্তান নিয়ে আগে বাস করতেন এরশাদ সরকারের গুচ্ছগ্রামে। তাঁর মত আর এক হতভাগী মুনছুর গাজীর স্ত্রী ফায়িমা খাতুন (২২) বাস করতেন ভোমরা গ্রামের এক ব্যক্তির কবরস্থানে খুঁপড়ী ঘরে। এরা এখন সবাই পাঁকা ঘরের মালিক।

গত কয়েক মাস থেকে মুজিবর্ষের উপহার প্রধানমন্ত্রী ভুমিহীন গৃহহীনদের জন্য গ্রহন করা স্বপ্নের আশ্রয়ন প্রকল্পে সংসার পেতে আনন্দে বসবাস করছেন। তাঁদের মত আরও ৪৭ টি পরিবার এমন ঘর ও জমি পেয়ে অনেকটায় সুখের ঠিকানায় আপন মহিমাময় নতুন আঙ্গীনা সাজাতে ব্যস্ত। এমন সব অসহায় মানুষগুলোর সুখের খবর জানতে গত ১৫ ই জুলাই বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউপির হাড়দ্দাহ গ্রামে। সেখানকার পরিবেশ আর স্বপ্নের আশ্রয়ন প্রকল্পের ৪৭ টি উপকারভোগী পরিবার যেন প্রকৃতির নৈসর্গিক লীলাভূমিতে নিজেদের কে মানিয়ে নিয়েছেন। এ প্রকল্পের স্থান নির্বাচনে প্রকল্প কমিটিকে রীতমত নিশ্চয় যুদ্ধ করতে হয়েছে দখলদারদের সাথে। পাঁকা এলজিইডি রাস্তার ধাঁর দিয়ে কোটি টাকা মুল্যের ভুমি উদ্ধার করে সে জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে পাঁকাঘর। এ ঘরগুলোতে প্রবেশের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে সুদীর্ঘ রাস্তা। সুপেয় পানির জন্য নলকুপ। সাংসারিক নানা কাজ সারতে পুকুর। প্রত্যেকটি ঘরে সুবিধাভোগীর স্ব-স্ব নামে বৈদ্যুতিক মিটার। প্রত্যেকটি ঘরে ২ টি বেডরুমের সাথে রান্নাঘর সহ বাথরুম। নতুন ঠিকানায় গৃহপালিত পশুপাখি বিচরণ করছে নতুন গ্রামের নতুন ঘরের উঠানে। ঘরগুলো দক্ষিণা বাতাসে জানালা দিয়ে আলো-আধাঁর খেলছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা নবাগত জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবির ও সাবেক জেলা প্রশাসক এস,এম,মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা ছিল অনেকটায় চ্যালেঞ্জের। তবে সদর উপজেলার গাভারচর ও হাড়দ্দাহ আশ্রয়ন প্রকল্প এক অনাবাদ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা জানিয়েছেন,হাড়দ্দাহ আশ্রয়ন প্রকল্প দেখলে যে কারোরই নিমেষই মন ভাল হয়ে যাবে। ছিন্নমূল মানুষগুলো মাথাগোঁজার ঠাঁয় পেয়ে কতটা আনন্দিত তা তাঁদের সাথে কথা না বল্লেই কেউ অনুধাবন করতে পারবে না।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ