মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

বাইবেলে আছে, He who liveth, he who beliveth, shall never die. অর্থাৎ যে বিশ্বাস করে সেই বেঁচে থাকে। এই বিশ্বাস এবং কাজের মধ্যে যে ডুবে যেতে পেরেছে তাকে কোনদিন কোন দুঃখ, হতাশা, মালিন্য স্পর্শ করতে পারে না। বিশ্বাস ও কাজের একটা নিজশ্ব আনান্দ আছে। সেই বিশ্বাসের মাঝে, সেই কাজের মাঝে আনান্দের দ্বারা থাকতে চাইলে স্বপ্নের মাঝে ডুবে থাকতে হয়। স্বপ্ন বেপারটা এক ধরনের সাধারন বেপার নয়। আমি কি হব? আমার পথ কোনটা? আমার গন্তব্য কি?  এসব প্রশ্নের বহিঃপ্রকাশেই হল স্বপ্ন। যে যত বড় স্বপ্ন দেখে,  সে তত বড় মানুষ হিসেবেই বিবেচ্য। কেননা আলোকিত মানুষ গড়ার কারীগর, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লা আবু সায়ীদ স্যার বলেছেন, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।
বাস্তব স্বপ্ন ও সেই স্বপ্ন পূরনের চেস্টা কখনোই ব্যার্থ হয় না। অর্থাৎ আমাদের সফলতার মূল ভিত্তিই হল স্বপ্ন। তাই ব্রায়ান ডাইসন বলেছেন, স্বপ্ন ছাড়া জীবন অর্থহীন। কবি ল্যাংস্টোন হিউজ তার Dreams কবিতায় লিখেছেন, Hold fast to dreams. for if dreams die, life is a broken winged bird, that cannot fly. Hold fast to dreams. for when dreams go, Life is a barren field, frozen with snow. অর্থাৎ কবি ল্যাংস্টোন হিউজ স্বপ্নগুলোকে আকড়ে ধরতে বলেছেন। কারন স্বপ্ন যদি মরে যায় বা চলে যায় জীবন তখন ডানা ভাঙ্গা পাখির মত হয়ে যাবে, উড়তে পারব না। স্বপ্ন না থাকলে জীবন তুষার ঢাকা উষর ভূমির মত জমাটবদ্ধ হয়ে যাবে।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি এ পি জে আব্দুল কালাম বলেছেন, স্বপ্ন সেটা নয় যেটা মানুষ ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যেটা পূরনের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমোতে দেয় না। এই একই সুরে ইংরেজি কবি ডি. এইচ. লরেন্স বলেছেন,  All people dream, but not equally. those who dream by night in the dusty recesses of their mind, woke in the morning to find that it was vanity.
সবাই স্বপ্ন দেখলেও সবার স্বপ্ন সমান নয়। যারা রাতের বেলায় ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে তারা ঘুম থেকে জেগে দেখে আসলে তা মিথ্যে ছিল। কবি ডি. এইচ. লরেন্স, দিনের বেলা স্বপ্ন দেখা মানুষকে বিপজ্জনক মানুষ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কেননা যারা খোলা চোখে স্বপ্ন দেখে তারা তা বাস্তবে পরিনত করে।  But the dreamers of the day are dangerous people, for they dream their dreams with open eyes,  And make them come true.
অনেক সমস্যার সম্মুখীন থেকেও যে মানুষটি স্বপ্ন দেখে শুধু নিজে নয় পুরো আমেরিকান সমাজের কৃষ্ণাঙ্গের বৈষম্যের শিকল ভেঙ্গে দিয়েছেন সে ব্যাক্তিটি হল, অহিংস আন্দোলন কর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াসিংটন ডিসিতে এক ভাষন দেন তাতে তিনি বলেন,  I have a dream that one day this nation will rise up and live out the true meaning of its creed: We hold these truths to be self-evidend; that all men are created equal.

মানুষের স্বপ্ন নিয়ে সাইকো-অ্যানালিসিস বা মনোসমীক্ষনের জনক সিগমন্ড ফ্রয়েড তার ‘দ্য ইন্টারপ্রিটেশন অব ড্রিমস’ বইয়ে বেশ চমকপ্রদ তত্ব উপস্থাপন করেন।
স্বপ্ন মনঃসমীক্ষনের একটি রূপ হিসেবে কাজ করে।  যে স্বপ্ন দেখে সে একটি নিরাপদ পরিবেশে বিভিন্ন চিন্তা এবং আবেগের মধ্যে সংযোগ সাধন করতে সক্ষম হয়। সিগমন্ড ফ্রয়েড আরো বলেছেন, একটি কম্পিউটারের পরিস্কারকরণ কাজের মতো স্বপ্ন মন থেকে জঞ্জাল পরিস্কার করার কাজ করে যা মনকে সতেজ করে ।
আমরা সবাই এগিয়ে যেতে চাই। সফল হতে চাই। কিন্তু সেই সফলতার মাল্য আমাদের জুটে না। কারন আমরা স্বপ্নই দেখতে জানিনা। আমাদের সফলতার জন্য স্বপ্ন দেখতে হবে। আমাদের স্বপ্নে যদি সূর্য টার্গেট থাকে,  স্বপ্নের সেই সূর্যটাকেও যদি আমরা না পাই তাহলে অবশ্যই একটা না একটা তাঁরা পাবোই। সেই তাঁরার আলোয় আলোকিতও হব।

লেখক:শ্যামল শীল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ইতিহাস বিভাগ

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন