মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৬ গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষের আহ্বান ; বৃষ্টিতে পণ্ড

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৬ গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষের আহ্বান ; বৃষ্টিতে পণ্ড

টুডে ডেস্ক :

নেত্রকোনার মদনের পল্লীতে দীর্ঘ দিনের বিবাদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়েও বৃষ্টির কারণে শনিবার (৫ জুন) সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারেনি। বৃষ্টিই বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুই পক্ষের মধ্যে।

গত ৫ মাস ধরে এই দু’পক্ষের মধ্যে কিছুদিন পরপর সংঘর্ষ হয়ে আসছিল। শনিবার সকালে ৬ টি গ্রামের মসজিদের মাইকে সংঘর্ষের ঘোষণা দিয়ে আবারো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একত্রিত হয়েছিল শত শত মানুষ। ওই সময় বৃষ্টি থাকায় অস্ত্রে সজ্জিত লোকজন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল সাড়ে তিনটা) কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের বাউসা গ্রামের মানিক মিয়া জনতা বাজারের ২ শতাংশ ভূমি একই ইউনিয়নের মাখনা গ্রামের ফৌজদার মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেয়। ফৌজদার মিয়া ক্রয়কৃত ভূমিতে দোকানঘর নির্মাণ করায় মানিক মিয়ার টিনসেড, ফৌজদার মিয়া ও শান্তু মিয়ার নব-নির্মিত আধপাকা দোকানঘর ভেঙে ফেলে বাজার কমিটি ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় মাখনা গ্রামের ফৌজদার মিয়ার ছেলে সোহেল খান বাদি হয়ে ২০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে বাজার কমিটির সভাপতি আজিজুল হকসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এরই জেরে নোয়াগাও, বাউসা, তালুককানাই আলমশ্রী, সোনাখালী গ্রামের লোকজন মাখনা গ্রামের সাথে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সিংহের বাজারের পাশে গৌরার হাওরে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সেখানে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ১১ রাউন্ড গুলি ছুড়লে লোকজন চলে যায়। এ সময় পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়।

সংঘর্ষের পর থেকে নোয়াগাও, বাউসা, তালুককানাই আলমশ্রী, সোনাখালী গ্রামের লোকজনদের সাথে মাখনা গ্রামের লোকজনের কোনো যোগাযোগ নেই। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ৫ মাস ধরে জনতা বাজারে মাখনা গ্রামের কোনো লোকজন যাতায়াত না করায় মাখনা গ্রামের কয়েকটি দোকান এখন পর্যন্ত বন্ধ। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, আধিপত্য বিস্তারের জন্য উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের ঘোষণা দেয়। শনিবার উত্তেজনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ রয়েছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত আছেন। সেখানে যাতে কোনরূপ সংঘর্ষ না হয় সেজন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন