ভোমরার মরহুম আব্দুল বারী মল্লিক হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিবাদ

ভোমরার মরহুম আব্দুল বারী মল্লিক হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিবাদ

সাতক্ষীরা টুডে” তে বিগত ৪/৪/২০২১ ইং তারিখে প্রকাশিত ” ভোমরার এতিমখানার সরকারী বরােেদ্দর সাড়ে তিনলক্ষ টাকা আত্নসাৎ ” শিরোনামে প্রকাশিত খবরটির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন – মরহুম আব্দুল বারী মল্লিক হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি মোঃ আফছার আলী। অদ্য ০৫/০৪/২০২১ তারিখে স্মারক নং এমএবিএমহামাএ/২০২১/সমাজসেবা/অভিযোগ/১১ এর মাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে তিনি জানিয়েছেন, প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। উক্ত সংবাদটি অসত্য, ভিত্তিহীন। এধরনের সংবাদ প্রকাশে আমি বিশ্মিত হয়েছি। প্রকৃত বিষয় নিন্মে তুলে ধরা হলো।

ক) চৌবাড়ীয়া মরহুম আব্দুল বারী মল্লিক হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার
শিক্ষার্থীদের খাওয়ার জন্য হাড়ি না জ্বললেও সরকারী বরাদ্দের তিন লক্ষ ৬০ হাজার
টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে কমিটির বিরুদ্ধে।

আমার বক্তব্য:- এতিমখানাটি বিগত ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন হতেই
সরকারের কোন সাহায্য সহযোগিতা ছাড়াই এলাকার গন্যমাণ্য ব্যক্তিদের সহায়তায়
সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি কোন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা
হয়নি। সব সময় না হলেও প্রথম হতে প্রায়ই রান্না করে নিবাসীদের খাওয়ানো হয় ।
সুতরাং হাড়ি জ্বলে না সংবাদটি যথাযথ নহে। বিগত ডিসেম্বর/২০ এ প্রদত্ত ক্যাপিটেশন
গ্রান্ডের টাকা উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের দূনীতির কারনে বিগত ৪/৪/২০২১ ইং
তারিখ পর্যন্ত ক্যাশ করা বা পাওয়া যায়নি। যেখানে সরকারী টাকা পাওয়াই যায়নি
সেখানে আতœসাৎ কিভাবে হল তা বোধগম্য নহে। মহোদয় বিষয়টি বিবেচনায় নিবেন বলে
আশা করি।

খ)সংবাদে বলা হয়েছে প্রথম দফায় ২০ জন ছাত্রের জন্য ১২০০০০ টাকা এবং ২য়
দফায় ২০ জন ছাত্রের জন্য ফেব্রুয়ারী ২০ সালে ২,৪০,০০০/ টাকার চেক দেয়া হয়।

আমার বক্তব্য: প্রথম দফায় ১০ জন ছাত্রের জন্য অর্থ প্রদান করা হয় ২০ জনের নয়। আর
২য় দফায় ২০ জনের জন্য ফ্রেব্রুয়ারী/২০ এ নহে মার্চ/২১ এ যা বিগত ৪/৪/২১ পর্যন্ত
ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়নি। সুতরাং এ সংবাদটি ও বস্তুনিষ্ঠ নহে।
গ) চৌবাড়ীয়া গ্রামে আব্দুল জব্বার/সাদিকুর রহমান বলে কোন ব্যক্তি আছে বলে আমার
জানা নেই। তবে হারুন মুহুরী বলে একজন ব্যক্তি আছে যার বাড়ী এতিমখানার বিপরীতে।
যিনি কোন সময় এতিমখানার ছাত্রদের ভাল চায়নি। এমনকি এতিমখানার বাচ্চাদের ভয়
দেখানোর জন্য রাতের আধারে ইট পাটখেল পর্যন্ত মেরেছে যা স্থানীয় সকলেই জানে। তার
এ ধরনের কান্ডঞ্জানহীন কাজের জন্য স্থানীয় থানায় যেয়ে মুছলেকা দিতে হয়েছিল।

ঘ)এতিমখানা ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আফসার আলী মল্লিক
প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন স্থান হতে টাকা তুলে মোটা অংকের টাকা পকেটস্থ করেছেন।
এমনকি ২০ জন ছাত্রের পৃথক ২টি তালিকা সমাজসেবা অফিসে জমা দিয়ে
৩,৬০,০০০/- টাকা আতœসাৎ করেছেন।
আমার বক্তব্য:
এতিমখানা ও মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করার পর হতে মোট অংকের টাকা তুলে পকেটস্থ করেছি
সংবাদটি সম্পূন্ন মিথ্যা ,অসত্য ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি গোয়েবলসের কল্প কাহিনীকেও হার
মানাবে। কারন এ পর্যন্ত কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে এতিমখানা/মাদ্রাসার নামে
কোন চাঁদা উঠানো হয়নি। সমাজসেবা দপ্তরে ২০ জনের২টি পৃথক তালিকা কোন সময় জমা
দেয়া হয়নি। আর সমাজসেবা দপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত বিগত ৬ মাসের টাকা এখনও পর্যন্ত
ব্যাংকের হিসাবে(৪/৪/২১) জমা হয়নি সুতরাং আতœসাৎ এর প্রশ্নই উঠে না। এটাও একটি
কল্প কাহিনী এবং আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ছাপানো হয়েছে। আমি
সংশ্লিষ্ঠ সাংবাদিক সাহেবকে অসত্য কোন সংবাদ না ছাপানোর জন্য অনুরোধ করেছিলাম।

ঙ) সমাজ সেবা অফিস যে টাকা দেয় তা এই প্রথম শুনতে পেরেছে তারা।
আমার বক্তব্য:
সমাজসেবা মন্ত্রণালয় হতে যখন প্রথম গ্রান্ট অনুমোদন হয় তার কয়েক দিন পরেই মাদ্রাসায়
একটি মিটিং ডাকা হয় এবং ঐ মিটিং এ কমিটি ও উপদেষ্ঠা কমিটির সদস্যরা ছাড়াও
এলাকার গন্যমাণ্য ব্যক্তিদের দাওয়াত দেয়া হয়। গ্রান্ট মঞ্জুরী হওয়া উপলক্ষে শোকরানা
দোয়াও করা হয়। সুতরাং গ্রান্টের কথা কেহ জানে না বা প্রথম শুনতে পেরেছে বক্তব্যটি
আদৌও সত্য নহে।

চ) উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জনাব সেখ সহিদুর রহমান নিজেই একজন অসাধু
কর্মকর্তা। সে পূর্বেও অফিস ডেকোরেশন করার নাম করে মাদ্রাসা /এতিমখানা
হতে সুবিধা গ্রহন করেছিল যা এতিমখানা সংশ্লিষ্ঠরা জানে। সুতারাং সংবাদটি বিভ্রান্তিমূলক অসত্য। আমি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সাতক্ষীরা টুডে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যঃ

ভোমরার এতিমখানার সরকারী বরােেদ্দর সাড়ে তিনলক্ষ টাকা আত্নসাৎ শিরোনামের সংবাদ বিষয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের লিখিত প্রতিবাদলিপির প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা টুডে হইতে উক্ত সংবাদটি মুছে / তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে উক্ত সংবাদ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আন্তুরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন