রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

বেনাপোলে চোরাই পথে ভারতের যাচ্ছে ইলিশ

টিটু মিলন, বেনাপোল / ১৭৪
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১

২০১২ সাল থেকে ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। এজন্য পদ্মার ইলিশ এখন ওপার বাংলায় ডুমুরের ফুল। তবে ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, চোরাপথে পদ্মার ইলিশ যাচ্ছে ওপার বাংলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০ রুপিতে মিলছে বাংলাদেশের সুস্বাদু রুপালি ইলিশ। বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে এ লেনদেন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভারতের মৎস্যজীবীদের অনেকেরই দাবি, বছরের এ সময়ই ইলিশ ধরার জন্য মুখিয়ে থাকেন তারা। কবে বাজারে একটু কম দামে ইলিশ পাওয়া যাবে তা নিয়েও দিন গোনেন ভোজনরসিক পশ্চিম বাংলার বাঙালিরা। কিন্তু সেই আশা এবার হয়তো আর পূরণ হওয়ার নয়।এবার ওপার বাংলার বাজারে এপার বাংলার ইলিশের আকালের জেরে পাচারকারীদের কাছে পাচারের অন্যতম উপাদান হয়ে উঠেছে পদ্মার ইলিশ। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, পেট্রাপোল সীমান্ত লাগোয়া তেরঘরিয়া, পিরোজপুর, গাইঘাটার ও সুটিয়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে পদ্মার ইলিশ ঢুকছে বনগাঁ বাজারে। হাত বদলে সেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপিতে। চোরাপথে আসা ইলিশ খোলাবাজারে সাধারণত বিক্রি করার ঝুঁকি নিতে চান না ব্যবসায়ীরা।সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে যাওয়া ইলিশ গোপনে মজুত করেন দালালরা। এরপর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ইলিশের ছবি দেখিয়ে ওজন ও দাম ঠিক করে যোগাযোগ করা হলে সেই ইলিশ হাতবদল হয়। এমনকি বেশি টাকার বিনিময়ে এই ইলিশের হোম ডেলিভারিও হচ্ছে বনগাঁ সীমান্ত শহর এলাকায়। সবই হয় গোপন পথে।সূত্র আরও জানায়, মূলত কাঁটাতারবিহীন এলাকা দিয়েই প্যাকেটভর্তি ইলিশ যায় বাংলাদেশ থেকে। সেই ইলিশই মজুত করেন দালালরা। এক থেকে দেড় কেজি ইলিশের দাম পড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ রুপি থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপি। পাচার রুখতে যথেষ্ট তৎপর সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবুও চোরাইপথে চলে যায় বাংলাদেশের ইলিশ।ভারত সীমান্তে বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী প্রদীপ দে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছর হাড়িভাঙা আম পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। আমরা আশা রাখছি, এবার সাধারণ মানুষের জন্যও পদ্মার ইলিশ পাঠাবেন।ভরতের বনগাঁ শহরের এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, পদ্মার ইলিশের জন্য কাস্টমারদের কাছ থেকে অনুরোধ আসে। তাই ইলিশের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম রেজা বলেন, বেনাপোল-শার্শার সীমান্তপথে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে করোনাকালীন বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবি পোস্টে কড়া নজরদারি রয়েছে। রাতে টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এ সীমান্ত পথে ইলিশ চোরাচালানি তো দূরে থাক, অন্য কোনো চোরাচালানিরও সুযোগ নেই।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ