HEADLINE
পরীক্ষার সময় পরিবহন চলা নিয়ে নিশ্চিত নয় জবির পরিবহন পুল উপকূলে সংকট বাড়ছে, সংকট সমাধানে প্রয়োজন সুপেয় পানি সহ টেকসই বেড়িবাঁধ খলিশাখালিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, প্রশাসনের সহযোগীতা চান ভূমিহীনরা একটি ছবি হয়ে উঠেছে আদর্শ ও অনুপ্রেরণা উৎস : তথ্য প্রতিমন্ত্রী খুলনায় ইউপি ভবন থেকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার ৩ আশাশুনিতে পারস্পরিক শিখন প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর বল্লীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা কেশবপুরের বিল খুকশিয়ায় মাছের ঘেরের বেড়িতে তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য সাতক্ষীরা রেঞ্জের অভয়ারণ্য থেকে ৩ জেলেসহ মাছ ধরা ট্রলার আটক অসহায় মানুষের পাশে “আল নূর” পরিবার
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১১ অপরাহ্ন

বিশ্ববিদ্যলয় খোলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের যত ভাবনা!

শ্যামল শীল / ২১
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের “উহান” শহরে করোনাভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রামণ দেখা দেয়ার পর থেকেই ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে মহামারী আকার ধারণ করেছে। ভাইরাসটির প্রার্দুভাবের দিক থেকে বাংলাদেশ ও এর ব্যতিক্রম নয়।
মৃত্যুর হোলি খেলায় নিমগ্ন কোভিড ১৯ দেশ ছেয়ে গেছে। মৃত্যুর মিছিল দির্ঘ থেকে দির্ঘতর হচ্ছে।করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে সারাবিশ্ব জর্জরিত হওয়ার কারণে মানুষ এখন অনেকটা গৃহবন্দী জীবনযাপন করছে।
 ভাইরাসটি মহামারী রূপ ধারণ করায় গত মার্চ মাস থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ পাঁচ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
উক্ত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস খুললে এর পরিণতি কি হবে বা হতে পারে তাই নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন ক্যাম্পাস টুডের প্রতিনিধি  শফিকুল ইসলাম । তবে, চিন্তাশীল ছাত্রসমাজ এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত না।
 আবারো বলছি, চিন্তাশীল ছাত্রসমাজ। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ই বুঝাচ্ছি। কারণ ১৮ বছরের নিম্নে সকলেই সাংবিধানিক ভাবে অপ্রাপ্তবয়োস্ক নাগরিক বা শিশু কিশোর।কিন্তু যারা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী তারা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক,ভোটাধিকার প্রাপ্ত নাগরিক। তাই তাদের মতামত, চিন্তাশক্তির মূল্য রয়েছে। এক্ষেত্রে একটা ব্যাপার না বললেই নয়।
করোনার শুরু থেকে দেশে যখন জরুরী অবস্থার পরিবেশ তৈরি হয় তখন থেকে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো সাধারণ সিদ্ধান্তের আয়তাভূক্ত করে বন্ধ করে দেয়, সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে। তখন অন্য সব ক্ষেত্রেও একই অবস্থা জারি করা হয় যেন সংক্রমণ না ছড়ায়।কিন্তু ৬ মাস পর ধীরে ধীরে সব সেক্টর ই সচল করে দেয়া হয়েছে, এমন কি গণ পরিবহণে ভাড়াও স্বাভাবিক করা হয়েছে, অর্থাৎ সীমিত আকারে কথাটি আর রইলই না কোথাও।
 কিন্তু, শিক্ষা প্রতিষ্টানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন আসে নি। এর পেছনে কারন কি? করোনা কি তবে শুধু মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই? আর কোথাও নাই? মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রেস ব্রিফিং এ বললেন শিক্ষার্থী শিশু কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ সজাগ। আমরা এই মতবাদকে সাধবাদ জানাই। তবে আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমরা কি শিশু কিশোর? আমরা সকলেই এখানে প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক, ভোটাধিকার রাখি যা রাষ্ট্রের নাগরিকের সর্বোচ্চ অধিকার। তবে কেন আমাদের কে শিশু কিশোর শিক্ষার্থীদের সাথে একীভূত করে সিদ্ধান্তে শামিল করা হচ্ছে?
যখনই প্রেস ব্রিফিং দেয়া হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে তখন শুধুই ” স্কুল-কলেজ” এই শব্দই ব্যবহার করে বিবৃতি দেয়া হয় বা এইচ এস সি পরীক্ষার্থীদের কথাই বলা হয়। কিন্তু এদের বাইরেও তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন যাদের প্রেক্ষাপট অন্যদের থেকে সম্পূর্ণই আলাদা, তারা প্রাপ্ত বয়স্ক ভালো মন্দ জ্ঞান রাখে এবং তারা শিক্ষা জীবন শেষ করলেই পা রাখবে কর্ম ক্ষেত্রে।

 তবে অন্য সব সেক্টর খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখে কি প্রমাণ করা হয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই রাষ্ট্রের সব থেকে নির্বোধ সম্প্রদায় যারা কিনা করোনার সুরক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অজ্ঞ? অথচ তারাই কিনা প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক এবং দেশের অনেক বড় বড় সিদ্ধান্তের পেছনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা পালনকারী।
ক্যাম্পাস খুললে আবাসিক হলে সংক্রমন নিয়েসরকার চিন্তিত।কিন্তু যেসব শিক্ষার্থীরা বাসায় অবস্থান করছে, জীবিকার তাগিদের তাদের বাসার সকলেই বাইরে যাচ্ছে হর হামেশা, এখানে কি তাদের করোনা সংক্রমনের ঝুকি নাই? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ বলে তো এমন না যে সব শিক্ষার্থী দরজা এটে ঘরে বসে থাকছে। একটু বাইরে বের হলে বা সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখা যাবে ছুটি পেয়ে সবাই ই বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে,আড্ডা দিচ্ছে, ট্যুরিস্ট স্পট খুলে দেয়ায় ট্যুর ও দিচ্ছে।

 এসব ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর উদ্দ্যেশ্য কি পালন হচ্ছে? যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য়,৪র্থ বর্ষে অবস্থান করছেন তারা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কর্মক্ষেত্রের লড়াইয়ে প্রবেশ করবেন। সবার বাসার সংগতি উচ্চবিত্তদের মত না, সেক্ষত্রে আর্থিক ভাবে তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এভাবে ভার্সিটি বন্ধ করে ঘরে বসে থেকে। অথচ সরকারি সার্কুলার ঠিকই একের পর এক হয়ে যাচ্ছে,অনেক চাকুরীর পরীক্ষার লিখিত এবং ভাইভাও হয়ে যাচ্ছে।
স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা পাস করে চাকুরীতে যাবেনা তাই তাদের আরো ৫ মাস বব্ধ থাকলেও তেমন ক্ষতি হবেনা কিন্তু যারা ভার্সিটি পাশ করে কর্মক্ষেত্রে যাবে তাদের এভাবে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে একীভূত করে ঘরে বসিয়ে রেখে দিন দিন তাদের মানসিক অবস্থা, আর্থিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে।

 বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যো ভিন্নমত ও রয়েছে। তবে লক্ষণীয় যে, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ উল্লেখজনক শিক্ষার্থীরাই আসে অবস্থাপন্ন বা স্বচ্ছল পরিবার থেকে। আর বয়সের কারণে হোক বা পারিবারিক স্বচ্ছলতার কারণে হোক এই সময়টা আমরা অনেকেই বেশ সৌখিন,স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে ভালোবাসি। করোনা পরিস্থিতিতে ভার্সিটি স্টুডেন্টদের এই অনাকাংখিত ছুটি যেন এই শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের জন্য আওনায় সোহাগা। তাদের পরিবারের আয় খরচের চাপ নেই, নেই হাল ধরবার তাড়া, সুতরাং ঘরে বসে এই ছুটি যেন তাদের এক উপভোগের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে তারা করোনার দোহাই দিয়ে ছুটি দীর্ঘায়িত করতে চাইলেও তারাই আভার বাড়ির বাইরে আড্ডা, ঘোরাঘুরি এমনকি বিভিন্ন জায়গায় ট্যুর ও দিচ্ছে বন্ধুদের সাথে।আর এসব ছবিও খোলাখুলিই অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ যেন এক মানুষের নানান রূপের খেলা। কিন্তু কঠোর বাস্তবতার স্বীকার দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় গামী শিক্ষার্থী। আর কার্যকরী মেধা শক্তি কে বসিয়ে রেখে দিন দিন জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার হবার পরিবর্তে সেগুলো ঠেলে দিচ্ছে হতাশা, আত্মহত্যার মত বিধ্বংসী পথে।

 তাই, ক্ষেত্র বিবেচনা করে, স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো খুলে দেয়া এখন সময়ের দাবী। স্কুল কলেজের সাথে একীভূতকরণ আর নয়, শিশু কিশোরদের সাথে প্রাপ্ত বয়স্ক মেধাশক্তির একীভূত করণ আর নয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যলয় শিক্ষার্থী মো: আনোয়ার শাহ বিশ্ববিদ্যলয় খোলা নিয়ে বলেন, সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা না হলে যে সমস্যার সৃষ্টি হবে, প্রথমত দেশের স্বার্বিক অবস্থা যা দেখতে পাচ্ছি তাতে এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলে যে সকল ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে তা মোটেও যথার্থ নয়। কারণ দেশের সবকিছু স্বাভাবিকভাবে ই চলছে, কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছিনা, আবার ঐ সকল সেক্টরে স্বাস্থ্যবিধীও মানা হচ্ছেনা। তাই খুব সহজেই বলা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খুলে দিলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যদি স্বাস্থ্যঝুকির অজুহাত দিয়ে ক্যাম্পাস খোলা না হয় তাহলে যে সকল সমস্যা সৃষ্টি হবে তা অপূরণীয় হবে বলে মনে করি। যেমন দেখুন-

 ১. সেপ্টেম্বরে ক্যাম্পাস না খুলতে পারলে দীর্ঘ একবছরের শেসন জট এর স্বীকার হতে হবে। যা স্বাভাবিক হতে আগামী দুই শিক্ষাবর্ষ লাগবে। সো ভয়াবহতা বুঝাই যাচ্ছে।
২. সেপ্টেম্বর এ ক্যাম্পাস না খুলতে পারলে এতো দীর্ঘ দিনের ছুটিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হবে। শারিরিক সুস্থ্যতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি মানসিক সুস্থ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।
৩. দীর্ঘ দিনের বন্ধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়বে, এ হতাশা থেকে আত্মহত্যা, অপরাধপ্রবনতা, আসমাজিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়াসহ নানাবিদ সমস্যা সৃষ্টি হবে। অলরেডি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এ নিয়ে নিউজ ছাপা হয়েছে।
৪. যে সকল শিক্ষার্থীগণ ফাইনাল ইয়ার এ আছেন তাদের সমস্যা সব চেয়ে বেশি হবে। তাদের কোমড় এমন ভাবে ভেঙ্গে যাবে যে, নতুন উদ্যমে পড়া লেখা করার সাহস সঞ্চয় করতে সক্ষম হবেন না। যদি সক্ষম হন তবে ততদিনে অনেক বেশি সময় নষ্ট হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া লেখা কেবল বাংলাদেশ কে কেন্দ্র করে হয়না। কেবল বিসিএস ই একজন শিক্ষার্থীর টার্গেট তা কিন্তু নয়। বরং বহু শিক্ষার্থী আছেন যারা বিদেশে পড়া লেখা করার স্বপ্ন বুণেছেন।

 বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করোণাকে পূজি করে শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রাখেনি। তারা যথাযথ ব্যবস্থা করে সেমিস্টার শেষ করেছে। সামনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এডমিশন এর আবেদন শুরু হবে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের যে সকল শিক্ষার্থীে এ সময়ে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা নিতে আবেদন করার কথা ভেবেছে তারা তা করতে পারবেনা। কারণ তাঁর সেমিস্টার শেষ হয়নি। ফলাফল আসেনি। ফলে কি হবে? এ সকল শিক্ষার্থীর বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। তারা যাদের সহপাঠি হওয়ার কথা ছিলো তারা সিনিওর হয়ে যাবে। তখন দেখা যাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে এমনি ই একবছর পিছিয়ে যাবে। নভেম্বর ডিসেম্বরে যে সকল শিক্ষার্থী বাহিরে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে অপেক্ষা করছিলো তারা এই ফল মিস করবে। ফলে অযথা সময় নষ্ট হওয়াতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়বে। যেহেতু এ সকল শিক্ষার্থীরা বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতো তাই দেশের চাকরি প্রস্তুতি এদের ছিলো না। এই মুহুর্তে বিদেশ যাওয়া বন্ধ হলো আবার দেশের চাকরী পড়া শুনা না থাকায় এখানেও ভালো কিছু করতে পারবেনা।
তাই এ সকল মেধাবীগণ ভেঙ্গে পড়বেন। যা একটি দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। কোটি ডলার খরচ করেও এ মেধা আর পাওয়া যাবেনা। হুমম যদি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যথাযথ নিয়মে ক্লাস পরীক্ষাসহ যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে ব্যবস্থা করতে পারতো, তাহলে এ সকল সমস্যা লাঘব হতো। তবে আমরা যেহেতু লক্ষ্য করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাস এর মাধ্যমে মূল চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দেশের সব কিছু স্বাভাবিক ভাবে চলমান তাই এ দাবিটি খুবই যৌক্তিক যে ক্যাম্পাস গুলো খুলে দেয়া হোক।

 ৫. যেহেুত এটা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আন্দোলন তাই কেবল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কিছু কথা বলতে হয়… যারা এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত। হোক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী তাদের আর্থিক সমস্যা প্রকট। বেতন ভাতা ঠিকমত পাচ্ছেন না। পেলেও অর্ধেক পাচ্ছেন যা জীবন ধারনের জন্য কষ্টকর। অনেকে আবার চাকরি হারিয়েছেন। সো সমস্যাগুলো হেলায় ফেলার মত নয়।
৬. মসজিদসমূহের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দিকে তাকালে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দেওয়া হলেও সমস্যা হবেনা। কারন, যদি সমস্যা হওয়ার ই ছিলো তাহলে মসজিদ ও মাদরাসায়ও সমস্যা হতো। তবে আমরা দেখেছি যে, হিফয মাদরাসার শিক্ষার্থীগণ বহাল তবিয়তে ভালো ই আছেন। শুনেছি এখন মাদরাসার কিতাব বিভাগও খুলে দেয়ার আয়োজন চলছে। এ সকল মাদরাসা সব ই আবাসিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের গনরুমের মত করে ছাত্ররা মাদরাসায় থাকে, পড়া লেখা করে, খাবার খায়। সুতরাং বিষয়টা সামগ্রিক ভাবেই চিন্তা করা উচিত।

 অতএব পরিস্থিতী যখন এমন তাই এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার দাবি জানানো অমূলক নয় বরং বাস্তব সম্মত বলে আমি মনে করি। এ ক্ষেত্রে যারা বলছেন ক্যাম্পাস খুলে দেয়া হলে লাশ এর স্তুপ পড়বে। আমি বলবো আপনারা জনমনে এতদিন বহু আতঙ্ক ছড়িয়ে অনেক ক্ষতি করেছেন আর করবেন না। প্লিজ এবার ক্ষ্যান্ত দেন। সব কিছু খুলে দিয়ে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে হার্ডইমিউনিটির পথে হাটা ই হবে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের  আইন বিভাগের শিক্ষার্থী  হাসানুর রহমান  বলেন, করোনার এই মহামারী কালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে  পরিস্থিতি আরোও ভালোমতো  পর্যবেক্ষণ করা উচিত ।বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে ভালো মতো  বুঝে না,  তাই  তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেও পারবেনা।শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত হবে না। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা উচিত।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে যাদের হলে থাকা লাগে তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।অনেকেই আবার গণ রুমে থাকে।তাই সব দিক বিচার বিবেচনা  করে তারপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
চট্রগ্রাম  বিশ্ববিদ্যলয়ের নিবিঞ্জন শিক্ষাথী  নওশাদ মাহফুজ বলেন, করোনায় স্বাস্থ্যঝুকিতে সবথেকে বেশী ৪০/৫০ বছর বয়সের মানুষজন।আর সব থেকে কম ১৮-৩০ বছরের মানুষজন।কিন্তু বয়স্করা সবাই ই কাজের জন্য বাইরে যাচ্ছে কিন্তু যাদের ঝুঁকি কম তাদের শুধু শুধু আটকে রাখা

 শুধু জীবন বাঁচিয়ে বেঁচে থাকা এদেশের প্রেক্ষাপটে যে সম্ভব নয় সেটা প্রমাণিত এবং এই বাস্তব শিক্ষাজীবনের শেষে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীর জীবনেও খুব প্রকট। এই বাস্তবতা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।বাড়ছে আত্মহত্যার মিছিল এর নেপথ্যে আছে বেকারত্ব, নিসংগতা।
বিগত পাঁচ মাসে যত আত্মহত্যার খবর এসেছে প্রায় সবই অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের। মাসের পর মাস ঘরে থেকে তারাও বিভিন্ন পারিবারিক বাস্তবতার সম্মুখীন হচ্ছে। ভবিষ্যত নিয়ে হতাশায় কাটাচ্ছে।আজকে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে বিশ্ববিদ্যালয় এর ছেলেমেয়েরা।

 তাছাড়া রাস্তাঘাট কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই মাত্র নেই।এমন পরিস্থিতে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া উচিত কারণ করোনা পরিস্থিতি আর তো কখনো নির্মূল হবে না এভাবে বসে থেকে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।তাই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হোক।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যলয় শিক্ষাথী মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, সদ্য ক্যাম্পাসে পা রাখা শিক্ষার্থীদের একজন আমি।নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে নানা স্বপ্ন দেখেছি। জানুয়ারিতে ক্লাস শুরু হলেও সর্বশেষ মার্চ মাসে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় ক্যাম্পাস। আচমকাই সবকিছু যেন ছন্দের গতি হারালো।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ১ম বর্ষের ছাত্র হিসেবে সেই আনন্দটা অপূর্ণ রয়ে গেল। এরই মধ্যে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আমার জীবন থেকে ১ম বর্ষের মতো একটা বছর যেন হারিয়ে গেল।
হয়ত চলত ক্লাসের ফাঁকে হৈ-হুল্লোড়, বন্ধুদের সাথে ছোটাছুটি করে নানা ধরনের আনন্দভ্রমণ।কিন্তু অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল অথচ তার কিছুই করা আর সম্ভব হলো না। লাল পাহাড়ের সবুজ ক্যাম্পাসের সাথে দেখা নেই, বন্ধুদের সাথে আড্ডা নেই, বেসুরো গলায় গান ধরা নেই । গত একমাস ধরেই অনলাইন ক্লাস হচ্ছে । কিন্তু গতানুগতিক ক্লাসের সেই আবেগটা আর নেই ‌।
তাই যখন শুনতে পাই ক্যাম্পাস খোলার একটা সম্ভাবনা আছে তখন না চাইতেও মনটা আনন্দিত হয় । দেশের যানবাহন, অফিস-আদালত সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে । তবে এই স্বাভাবিকতার মাঝে রয়েছে একটা চাপা আতঙ্ক । অচিরেই আমরাও ফিরে যেতে চাই আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাসে । তবে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই । হোক না সেটা কিছুদিন পরেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানোয়ার হোসাইন বিশ্ববিদ্যলয় খোলা নিয়ে বলেন, করোনা শীতপ্রদান দেশে যে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেছে, সে হিসেবে আমাদের জানুয়ারী মাস পর্যন্ত দেখা উচিৎ। কারণ ডিসেম্বর থেকে আমাদের দেশে শীতকাল শুরু হবে। তখন আমরা করোনার প্রভাব টা আরো ভালভাবে বুঝতে পারবো যে, অবস্থা স্বাভাবিকই থাকবে না অস্বাভাবিক কিছু হবে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ব্যাপারে মতামত পেশ করছি।
তাই বর্তমানে পরিস্থিততে  সেপ্টেম্বর মধ্যে বিশ্ববিদ্যলয় খোলা চাই সোশাল মিডিয়া একটি গ্রুপে জোর দাবি জানিয়ে আসছে।তাই আমি চাই বিশ্ববিদ্যলয়  যারা অনার্স ও মাস্টার্স শিক্ষাথীদের দ্রুত পরিক্ষা নিয়ে  তাঁদের রেজাল্ট ঘোষণা করে দেওয়া এনং বাকিদের পর্যায়ক্রমে অনেক গভিরভাবে পর্যবেক্ষণ করে বিশ্ববিদ্যলয় খোলা উচিত।
ইতোমধ্য ৬৭ দেশের বিশ্ববিদ্যলয়  খোলা হচ্ছে তারা কি কি পদক্ষেপ  নিচ্ছে  সেটি আমলে নিয়ে চিন্তা করতে হবে বিশ্ববিদ্যলয় খোলা যায় কিনা।

লেখকঃশ্যামল শীল,ইতিহাস বিভাগ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ