HEADLINE
ছওয়াব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ”আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যাকাতের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনার ঝাউডাঙ্গা ভূমি অফিসের তহসিলদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ দাঁতভাঙা বিলে মৎস্য ঘের থেকে অজ্ঞাত নারীর লা’শ উদ্ধার মুখে মাস্ক পরে দেবহাটায় একরাতে ৪টি দোকানে চুরি ভাগ্য খুলতে পারে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের! স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সাতক্ষীরায় বেসরকারি ক্লিনিকে অভিযানে ভুয়া চিকিৎসকসহ দু’জনের কারাদণ্ড সাতক্ষীরা হার্ট ফাউন্ডেশনে সেবিকার কর্তব্য অবহেলায় বৃদ্ধার মৃ’ত্যুর অভিযোগ ডুমুরিয়ায় দুই শিশু সন্তানকে বালিশ চা’পা দিয়ে হ’ত্যার পর মায়ের আত্মহ’ত্যা ভোমরা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন : সভাপতি জাহাঙ্গীর, জিয়া সাধারণ সম্পাদক
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

বিদেশীদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আমাদের দেশে কাম্য নয়

জহিরুল ইসলাম শাহীন / ২১৮
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র একটি দেশ। অধিক জনসংখ্যা ও ঘন বসতির একটি দেশ, এবং সমতল ভূমির একটি দেশ। চারদিকে নদী নালা, গাছ পালা, পাহাড় পর্বতে, সবুজ শ্যামলে ঘেরা সুতরাং এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা দেশ পৃথিবীতে খুবই কম। এখানে শীত, গরম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত সব ঋতুতেই বৈচিত্র আছে। মানুষের ভেতরে আত্মীয়তার সম্পর্কও বিরাজমান। দুবেলা দুমুঠো ডাল ভাত খেয়ে সবার মনে শান্তিও বিরাজমান। আনন্দ আমোদ আহলাদ এর ভেতর দিয়ে সবার দিন কাটে। কিন্তু আমরা গত এক দশক ধরে মানুষের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখছি, যার ফলে অনেকের মধ্যে, অনেক পরিবারের ভেতরে বা রাজনৈতিক অনেক গোষ্টি বা দলের ভেতরে নেই সস্থির নি:স্বাস। আছে চারদিকে রাজনৈতিক হাহাকার, সবার ভেতরে কেমন যেন অস্থিরতা। এমন সময় ও দিন হয়তো সামনে আসছে যেখানে বি.এন.পি সমর্থনকারী একটা ছেলে বা মেয়ের বিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থনকারী একটা ছেলে বা মেয়ের সংগে বিবাহ বন্ধন হবে না। আওয়ামী লীগ পরিবারের সাথে বি.এন.পি. পরিবারের দেখা করাও সম্ভব হবে না। এমন টা তো এদেশের কেউ আশা করে না। একই দেশে, একটি স্বাধীন সর্বভৌম ভূখন্ডে সবাই একত্রে বসবাস করবো। একই সংঙ্গে যে কোন ভালো কাজে অংশ গ্রহণ করবো। সুন্দর সিদ্ধান্ত দিয়ে অর্থ সামাজিক অবস্থানের উন্নতি ঘটাবো। যার ধর্ম সেই পালন করবো। যার কাজ সেই করবো। যার মতামত সেই দেবো। যার চিন্তা ভাবনা যাই সেই অনুযায়ী কাজ করবো। সবার সমান বাক স্বাধীনতা থাকবে। চিন্তা প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং থাকতে হবে। এটাই তো সাংবিধানিক আইন, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? কেন সবাই ভয় ভীতির মধ্য দিয়ে, অসস্থিকর পরিবেশের ভেতর দিয়ে বসবাস করতে হবে। এর সূত্রপাত বেশি দিনের নয়। আমার মনে হয় নির্বাচন নির্বাচন খেলা এজন্য দায়ী। কেউই দেশের মধ্যে অরাজকতা তৈরী করছে। জনগনকে বিভিন্ন ভাবে ভাগ করে ফেলছে। আবার কেউ কেউ বিদেশিদের উন্নতি বর্ননা দিয়ে দেশের মধ্যে তাদের প্রভাব বিস্তারে সাহায্য করছে। কোনটাই আমাদের মত তৃতীয় বিশে^র দরিদ্র দেশে মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। এতে এদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেমন ক্ষতি হবে, এদেশের মানুষের মধ্যে যে, সম্প্রীতির বন্ধন ছিলো সেটা অটুট রাখার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের বিগত দুটি নির্বাচনের তুলনায় আসছে আগামী ৭ জানুয়ারী ২০২৪ নির্বাচন নিয়ে আমাদের দেশের বাইরে, আন্তজার্তিক পরিসরে যে আগ্রহ ও উদ্বেগ একটু বেশি তা ইতি মধ্যে মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেছে। অনেকের ধারনা একদিকে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং রাশিয়া ও চীনের বাড়তি বিপরীত মুখি আগ্রহের কারন ভুরাজনীতির প্রশ্ন। আবার কারোর কারোর মতে বানিজ্যিক স্বার্থ, তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে মানুষ যাতে সুষ্ঠ, সুন্দর পরিবেশে অবাধে ভোট দিতে পারে এবং তার সচ্ছ ও প্রতিযোগিতা সুষ্ঠভাবে হয়, সে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সেচ্চার যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ। যদি যুক্তরাষ্ট্র কোন নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নয় বলে বার বার উচ্চরন করলেও বর্তমান সরকার এবং তার মন্ত্রীরা এবং অনুসারীরা মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্র আসলে ষড়যন্ত্র করছে। সরকার পরিবর্তন করে নতুন কোন সরকার তৈরী করার পায়তারা চালাছে। কয়েকটি বৃহৎ শক্তির কাছ থেকেও একই অভিযোগ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে গনচীন ও রাশিয়া কয়েকবার সমালোচালনা করে চলেছে বাংলাদেশে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ অবাধ ও অংশগ্রহনমুলক নির্বাচনের দাবির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে। এর পেছনে যুক্তিও আছে। যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর বহু দেশে হস্তক্ষেপ করে অস্থিতিসীল করে তুলছে এবং যেখানে হাত দিয়েছে সেখানে সরকারকে পরিবর্তন করে ছাড়িয়েছেন। এক্ষেত্রে আমরা লিবিয়া, ইউক্রেন, মিশর, ইরাক, পাকিস্তান, আফগানস্তান সহ বিভিন্ন দেশ গুলোতে স্বৈর শাসনও ছিল এবং অনেকে সরা জীবন ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা সঠিক কাজটাই করছে। নি: সন্দেহে বলা যায়। আবার কিছু কিছু দেশ তাদের হুকুমের তাবেদার বানিয়েছে। অন্য দিকে পরা শক্তির আরেকটি দেশ, আমাদের প্রতিবেশি দেশ মুক্তিযুদ্ধে যারা অকুষ্ঠ সাহায্য ও সহযোগিতা দিয়ে ছিলেন এবং আমাদের সাথে কিছু কিছু সময় সক্রিয় যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিল সেটা হল ভারত। এই ভারত সরকার এমন কিছু না বললেও সেখানকার পত্র পত্রিকা ও বিশ্লেষকেরাও বলছেন। সুষ্ঠ নির্বাচন দাবির মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পায়তারা করা হচ্ছে। তারা বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়েছে কারন তাদের মনে একটা ভয় আছে যদি বাংলাদেশ সরকার পরিবর্তন হয় এবং যে নতুন সরকার আসবে তারা রজনীতির ক্ষেত্রে ভারত বিরোধী হয়ে উঠতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসক্ত হতে পারে এবং অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক ক্ষেত্রে তারা একটা আস্তানা বাংলাদেশে গড়তে পারে। এতে ভারত সরকারের কিছু টা ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব সময় ভারতের স্থানে আছে, ছিল থাকবে এবং ভারতের উচিত বাংলাদেশ সব সময় তাদের পাশে থাকবে, ভারতের নরেন্দ্রমোদী সরকারের উচিত ও ছিল তাই। কোনো দল বা গোষ্ঠিকে সহযোগিতা না করা। বাংলাদেশের কোন দল ক্ষমতায় গেল বা না গেল, কারা জনগনের সরকার গঠন করলো, এটা বাংলাদেশের ব্যাপার। বাংলাদেশের জনগনকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলা ভারতের উচিত হবে না। কারন বাংলাদেশের জনগন জানে, ভারত আমাদের কাছের বন্ধু। নব্বই দশকে দেংপেং এর নেতৃত্বে রাজধানীর সাংহাইয়ে যে গনতন্ত্র পন্থী দশ লাখ লোকের সমাবেশ হয়েছিল সেই সমাবেশের উপর যে ভাবে নির্মম নিষ্ঠুর অত্যচার চালানো হয়েছিল তা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি জঘন্যতম ইতিহাস।
সাধারনত একটি দেশের উন্নয়নে রাজনীতিতে বা তাদের রাষ্টের কাঠামোতে, বা কিভাবে দেশটা চলবে সেখানে বিদেশি কুটনীতিকদের রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের উপর হস্তক্ষেপ করার কথা নয় এড়িয়ে চলার কথা, তবে বিভিন্ন দলের কার্যক্রমে পর্যবেক্ষনে বা নিরীক্ষনে তাদের অনুষ্ঠানে অতিথী হিসেবে হাজির হয়ে দর্শকের আসন গ্রহণের নীতি চালু আছে। রাজনীতি বিদদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত কিংবা দুই দেশের স্বার্থ-সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনায় কোন বাধা থাকার কথা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অতি শক্তিশালী রাষ্টদুত পিটার হাস গত আগষ্টের ০৩ তারিখে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলটির কয়েক নেতার সাথে মত বিনিময়ের পর সেখানে সংবাদিক দের সাথেও কথা বলেছেন। কোন সমস্যা নেই। প্রটোকল অনুযায়ী এবং নিয়ম অনুযায়ী আইন শুদ্ধ হয়েছে। কিন্তু যখন বি.এন.পি নেতাদের সাথে বৈঠক হলেই দেশ কেপে উঠে, যেন বজ্রপাত হয়েছে। সবাই নড়ে চড়ে বসেন। কিছুএকটা ঘটতে যাচ্ছে। প্রতিবেশি রাষ্ট্রই নয়, বাংলাদেশের জনগনকে ভারতের অনেক কিছুর উপর নির্ভর করতে হয়। আমার দৃষ্টিতে ভারত সরকার হয়তো কিছুটা ভুল করেছে। বাংলাদেশের জনগনকে ্ঐক্যবদ্ধ করাই ভারত সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি মনে করি। অন্য দিকে চীন সরকার সরাসরি বলছে, বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে আমরা মাথা ঘামাবো না। নির্বাচন ও সরকার গঠন করা বাংলাদেশের জনগনের দায়িত্ব। আমরা হস্তক্ষেপ করতে চাই না। আবার বাইরে কোন দেশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক এমনটা আমরা আশা করি না। কথাটা খুবই সুন্দর । এই মর্ম কথা ভারতে বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরিন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করুক। এর পেছনে নিশচয় চীনের সরকারের একটা উদ্দেশ্য থাকতে পারে, ব্যাখা করার কোন প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতার উপর জোর দিয়েছে চীন সরকার। চীনের বিপুল বিনিয়োগ এর বিষয় টি বিবেচনায় রেখে তার দেশ নির্বাচনের পরও স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। স্থিতিশীলতার যুক্তির মানে নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন তারা চায় না। সুষ্ঠ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশীদারিত্ব নির্বাচন হলে সরকার বদলে যাবে। এখন ধারনার ভিত্তিতে স্থিতিশীলতা যদি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না হয়, তাহলে বলতেই হয় বিষয়টির এবং তাদের মন্তব্যের ও মতামতের নতুন করে সংস্কার করতে হবে। দেশটির নাম চীন, বহু বছর ধরে সমাজতন্ত্র পন্থী একটি দেশ, গনতন্ত্রপন্থি নয় কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে বা বিষ্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের সভায় উপস্থিত হয়ে বক্তৃতা করার একমাত্র ইতিহাস বা রেকর্ড আছে চীনা কুটনীতিকদের। ক্ষমতাসীন জোটের এক শরীক দল সাম্যবাদী দলের ০৩ অক্টোবর ২০২৩ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে এবং তাদের জন সভায় অতিথী ছিলেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা জনাব আমির হোসেন আমু এবং জোটের অন্যান্য নেতৃ বৃন্দ এবং সাথে ছিলেন চীনা দুতাবাসের রাষ্টদুত ইয়াংহু এলং। তিনি ঐ সভায় বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। ৪অক্টোবর ২০২৩ অর্থ্যাৎ পর দিন ঘবংি অমব পত্রিকায় ছবি সহ ছাপা হয়েছিল এবং অনেক নেতাই মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং দেশীয় রাজনীতি নিয়ে এবং বিশেষ করে বি.এন.পির বিরুদ্ধে অনেক দোষারুপ করেছিল। কই সেদিনতো কেউই কোন মন্তব্য করেননি। এটা যদি অন্য কোন বিরোধী দলের সময় দেশে ঘটতো বা যে কোন দেশের দুতাবাসের প্রতিনিধিরা মঞ্চে উঠতেন, আর যদি পেটার হাস উপস্থিত থাকতেন তখন কিযে ঘটতো, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন বিভাজন তো ভাল নয়। সবার জন্য স্বাধীনতা বা অধিকার সমান, এটা নিশ্চিত হওয়া দরকার শূধু মাত্র দেশের সম্পীতি বজায় রাখার জন্য। ২০১১ সালেও সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছিলেন সাবেক কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বরাষ্ট মন্ত্রী প্রয়াত এ্যড: সাহারা খাতুন এবং চীনা দুতাবাসের কর্মরত রাষ্ট্রদুত ঝাংজিয়ানী । ঐ সময়ে দীলিপ বড়–য়া মন্ত্রী ছিলেন। কোনো সমস্যা তো দেখা দেয়নি। এতে দোষের তো কিছু দেখিনা। এটা তো ভাল দিক যদি কোন দলের এমপি বা বিদেশী কোন অতিথীকে আমন্ত্রন জানানো হয় তাতে সমস্যাটা কোথায়। সব কিন্তু সবাইকে মেনে নিতে হবে। মেনে নিলেই তো কোন সমস্যা হয় না বা ভেদাভেদের সৃষ্টি হয় না, রাজনীতিতে সহনশীলতা থাকা খুবই দরকার। ২০২৩ সালের সাম্যবাদী দলের জনসভা ছিলো আরো চমকপ্রদ। দলটির প্রধান নেতা দিলীপ বড়–য়া বলেছিলেন ঐ সভায়, বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী বঙ্গ বন্ধু কন্যা জননেন্ত্রী শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাক, এমন আকাংখায় তিনি ব্যাক্ত করেছিলেন যা প্রকাশিত হয় মানব জমিন পত্রিকায় ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর, এবং রাষ্ট্রদুত-ঝাংজিয়ানী বিশেষ অতিথীর বক্তব্যে বলেছিলেন ১৯৭৬ সালে সি পি বি এম এস প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ন সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। কারন বাংলাদেশ ও চীনের এই দুটো দলই মার্কসবাদ এবং মাও সেতুংয়ের চিন্তা ধারায় পরিচালিত। তিনি এও বলেন “আমরা ক্রমাগত পারস্পরিক বোঝাপোড়াকে তা ভীতিকর করছি। উভয় পক্ষের চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে মার্কসবাদ বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করার চেষ্টা করছি। সুতরাং সকলকে অনুধাবন করতে হবে ছোট ছোট রাজনৈতিক দল বিশেষ করে যারা সমাজ তন্ত্রে বিশ^াসী যেমন বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টি, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, সাম্যবাদী দল কতটা গুরুত্বপূর্ন। এই জাতীয় ছোট দলের নেতারা এখনও আজকের দিনে গনচীন, রাশিয়া, ভারত, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিন কোরিয়া সহ বিভিন্ন দেশের সহিত সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে এবং বাংলাদেশের দ্ইুটি সর্ব বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ন। কেন আজ ভারত, চীন, রাশিয়া, এবং পশ্চিমারা বাংলাদেশের মত ক্ষুদ্র একটি দেশে হস্তক্ষেপ করতে চায়, এটা সবাইকে বুঝতে হবে। বিভিন্ন দেশের ভ্রাতৃপ্রতিম রাজনৈতিক দলের প্রতি নিধীর অংশ গ্রহন ও শুভেচ্ছা জানানোর রীতি গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে বহুকাল ধরে চলে আসছে, কিন্তু কোন কুটনীতিকের এভাবে দলীয় সভায় রাজনৈতিক বক্তৃতা দেওয়ার আরা কোন নজির আমাদের দেশে আছে বলে আমি শুনিনি। এমন ঘটনা যদি কোন বিরোধী দলের বেলায় ঘটতো তাহলে অবস্থাটা কি দাড়াতো? ক্ষমতাধর ও শক্তিশালি কুটনীতিকদের (বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মান, ইংল্যান্ড, কানাডা) আরও অনেক কৌশল আছে যা বাইরের দেশের বিভিন্ন দলের সাথে সু সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় তাদের সক্রিয়তা অন্য যে কোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। বিভিন্ন দুর্যোগের সময়, যেমন করোনা ভাইরাসের মত মরন ব্যাধির সময়ে ঐ চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জতীয়তাবাদী দলকে হাজার হাজার ভ্যাকসিন ও ফেস মাক্স দিয়েছিল। জাতীয় পাটি বা অন্য কোন ধর্ম ভিত্তিক দলকে কিন্তু উপহার হিসেবে দান করেন নাই। এটা আমার কাছে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে মনে হয়েছে। আসলে উচিত, রাষ্ট্র বা সরকারকে সাহায্য দেওয়া এবং সরকারই জনগনের মধ্যে বিলিয়ে দিবেন এটাই নীতি। আবার স্বাধীনতা যুদ্ধে যেমন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিলেন। আবার পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বানিজ্যিক ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করেছিলেন ঠিক তেমনি জাতিসংঘের সদস্য পদ পেতে গনচীন ও আমাদেরকে বিরোধিতা করেছিলেন প্রায় ১৯৭৪ সালে জুন মাস পর্যন্ত। আবার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় আরও দেড় বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৬ সালের জানুয়ারী মাসে। তাই আসুন পরনিরর্ভতা কমিয়ে আমরা সবাই আমাদের শ্রম দিয়ে, কায়িক পরিশ্রম দিয়ে, এবং স্বনির্ভরতার উপর ভর করে, নিজেদের সম্পীতি বজায় রেখে দেশকে উন্নত থেকে আরও উন্নততর করে বিশে^র বুকে মাথা উচু করে দাড়ানোর চেষ্টা করি। যে দলই ক্ষমতায় যাক না কেন বা থাকনা কেন, তাতেতো জনগনের কোন ক্ষতি হবে না। জনগনের মধ্যে শান্তি সম্প্রীতি সৃষ্টি করা সকল দলেরই নৈতিক দায়িত্ব।

লেখক: জহিরুল ইসলাম শাহীন
সহঃ অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ