বন্ধুরা কবে ফিরবে ক্যাম্পাসে

বন্ধুরা কবে ফিরবে ক্যাম্পাসে

শ্যামল শীল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস  এক গল্পের  মতো।যদি ও গৃহবন্দীর এগার মাস কেটে গেল ও শিক্ষার্থীদের মনে স্বস্তির  দেখা মেলেনি।চীনের একটি ভাইরাস  যে বাংলাদেশে ও এত প্রকট আকারে  আঘাত হানবে সবার কাছে তা অকল্পনীয়। এই ভয়াবহ ভাইরাসের সংক্রমন এড়াতে  স্হগিত করা হয় বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান।এর কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ  শিক্ষার্থী ছুটির কারনে নিজ নিজ বাড়িতে  অবস্থান করে আসছেন।যেখানে শিক্ষার্থীরা এক টা লম্বা সময় পার করত সেখানে বাড়িতে বসে সময় কাটাতে হচ্ছে।মিস করছি প্রিয় ক্যাম্পাস ও বন্ধুদের।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধু কি সেটা করোনা মহামারী না আসলে কেউ হয়তো উপলব্ধিই করত পারত না।উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি আর ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ গুলো এক হয়ে যায় ক্যাম্পাের বন্ধুত্বে।এই বন্ধুত্ব মানুষ কে জাতি,ধর্মও বর্ণের উদ্বে উঠতে শেখায়।ক্যাম্পাসে ক্লাস শেষে কিংবা অবসরে বন্ধুদের সাথে  ক্যাম্পাসে আড্ডা দেয়া একটু খানি মনে  প্রশান্তি এনে দেয় সবার মাঝে।সারা দিনের পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা জমে ওঠে ক্যাম্পাসের  প্রধান ফটকের সামনে, টি,এস,সি  চায়ের দোকান গুলোতে।করোনায় ক্যাম্পাসের এই বন্ধু গুলোর আড্ডা মিস করছে সবাই। স্কুল -কলেজের বন্ধুদের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুত্বের দিন গুলো সব শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক টা রোমান্স কর,স্মৃতি ও বটে।তবে এ সুযোগ টা পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীরা।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুত্ব টা কারো কাছে অনেক ভারী আর কারো কাছে ভরসার শব্দ।বন্ধু ছাড়া ক্যাম্পাস যেন মরুভূমি।প্রয়োজনে এরা অবতীর্ণ হয় মা,বাবা ভাইয়ের ভূমিকায়। ক্যাম্পাসের বন্ধুত্বের মধ্যে থাকে আত্মার অভিন্নতা। ঘুৃ থেকে উঠেই ক্লাস, টি,এস,সি তে বন্ধুদের সাথে চা আড্ডা আর লাল বাসে বন্ধুরা মিলে গলা ফাটিয়ে বেসুরা গলায় গান এ সব কিছু যেন কেমন অতীত স্মৃতি হয়ে গেল।ক্লাসের অসমাপ্ত লেকচার, টিউটোরিয়াল,অ্যাসাইনমেন্ট,বন্ধু ও প্রিয় জনকে দেওয়া প্রতিস্রুতি  সব কিছুই স্হাবির হয়ে গেল এক অদৃশ্য শক্তির ভয়াল থাবায়।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট যেমনঃ শান্ত চত্বর, টি,এস,সি,বিজ্ঞান  অনুষদ চত্বর,কলা অনুষদ,কাঁঠাল তলা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটের বাইরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের সামনে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ভিতরে,ক্যান্টিনে,ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে, অবকাশ ভবনে,শহীদ মিনারের সামনে  ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আড্ডা এবং খোশ গল্পে ভরপুর থাকতো।আড্ডা হচ্ছে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা,আনন্দ আর উল্লাসের উৎস। বৃষ্টি হোক আর রোদ হোক থেমে থাকবে না বন্ধুদের ক্যাম্পাস আড্ডা। আর এই বন্ধুত্ব গল্প, আড্ডার চির ধরেছে করোনায়।করোনায় সেই আনন্দ টুকু সবার কাছে থেকে কেড়ে নিয়েছে।১ম বর্ষের শুরু থেকে করোনায় ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত মনে অনেক স্মৃতি  জড়িয়ে রয়েছে সবার।দীর্ঘ দিন দেখা না হওয়ার কারনে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একে অপরের খোজ খবর নিচ্ছেন  শিক্ষার্থীরা।খাতা,কলম নিয়ে ছুটে চলার  যে  কর্ম ব্যস্ততা তা যেন এখন শুধু কলপাতে রয়েছে।ছাত্র -ছাত্রীদের পদচারনায় আবার কবে ক্যাম্পাস মুখর হয়ে উঠবে,বন্ধুরা সবাই এক সাথে মিলে আড্ডা দিতে পারবো।বাসায় বসে এখন এই অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে  সবাই কে।করোনার এই মহামারিতে চার দিকে যেমন নিস্তব্ধ মানুষের চোখে ঘন কালো ছায়া আর শিক্ষার্থীদের সারা দিন ধরে ক্লাস,ল্যাপ, অ্যাসাইনমেন্ট অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকা ক্যাম্পাস গুলো এখন যেন প্রানহীন।প্রতি দিনই ফেস বুকের নিউজ ফিড়ে দেখা যায় যে  অসংখ্যা  স্ট্যাটাস আর পোষ্ট। তবে ফেস বুক লাইভ প্রোগাম করে ও সময় কাটাচ্ছে অনেকে। সবারই ক্যাম্পাসে ফেরার প্রত্যাশা।সবাই অপেক্ষা করছে কবে এ মহামারী শেষ হবে,কবে আবার সবাই ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়াবে।সবাই যেন আবার এক সাথে মিলিত হতে পারে সেই প্রত্যাশা সবার।বন্ধুরা মিলে প্রানের টানে আবার ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে ফিরে যাবে। মুখরিত করে তুলব প্রিয় ক্যাম্পাস।সেই দিনের অপেক্ষায়। কবে আসবে সেই দিন যে দিন শিক্ষার্থীদেরবআনাগোনায় প্রানবন্ত হয়ে উঠবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন