HEADLINE
ছওয়াব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ”আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যাকাতের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনার ঝাউডাঙ্গা ভূমি অফিসের তহসিলদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ দাঁতভাঙা বিলে মৎস্য ঘের থেকে অজ্ঞাত নারীর লা’শ উদ্ধার মুখে মাস্ক পরে দেবহাটায় একরাতে ৪টি দোকানে চুরি ভাগ্য খুলতে পারে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের! স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সাতক্ষীরায় বেসরকারি ক্লিনিকে অভিযানে ভুয়া চিকিৎসকসহ দু’জনের কারাদণ্ড সাতক্ষীরা হার্ট ফাউন্ডেশনে সেবিকার কর্তব্য অবহেলায় বৃদ্ধার মৃ’ত্যুর অভিযোগ ডুমুরিয়ায় দুই শিশু সন্তানকে বালিশ চা’পা দিয়ে হ’ত্যার পর মায়ের আত্মহ’ত্যা ভোমরা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন : সভাপতি জাহাঙ্গীর, জিয়া সাধারণ সম্পাদক
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে

জহিরুল ইসলাম শাহীন / ১৮৮
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৪

বাংলাদেশ বিশে^র মানচিত্রে যদিও একটি ক্ষুদ্র দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশ হতে যাচ্ছে কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এ পর্যন্ত পৃথিবীর কোন দেশে এক জন মহিলা একটানা ৪ বার ক্ষমতায় থেকে প্রধান মন্ত্রী হতে পারেন নি, বাংলাদেশ কিন্তু সেটা দেখিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী এ মুহুর্তে সেই অবস্থানটা ধরে রেখেছে। তিনি যে এক জন সাহসী নির্ভিক, শক্তি শালী নেত্রী সেটা প্রমান পেয়েছে। পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রকে, কোন প্রশাসন কে, কোন সরকারকে এ পর্যন্ত সামান্য পরিমান ও ডরাননি বা ভয় পান নি। অত্যন্ত নির্বিঘেœ, নির্ভয়ে, একেবারে নিশ্চিন্তে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বত:স্ফুর্ত ভাবে কোন চাপ কে গ্রাহ্য না করে সম্পন্ন করেন নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে। জাতীয় সংসদে নব নিযুক্ত সংসদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১১ জানুয়ারী সকাল দশটায় এবং ১২ তারিখ সন্ধায় ৭টায় নতুন মন্ত্রী পরিষদের ২৫ জন পূর্ন মন্ত্রী পদ মর্যাদার এবং ১১ জন প্রতি মন্ত্রীর শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এবং এবারের পার্লামেন্ট অত্যন্ত হেভিওয়েট দশ জন মন্ত্রী বাদ পড়েছেন এবং সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট অনেক প্রার্থী নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারেন নি। এ থেকে বোঝা যায় একটু বিতর্কিত বা জনগনের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেননি বা প্রধান মন্ত্রীর উপদেশ নির্দেশ মেনে জনগনের স্বার্থে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ঠিকই জনগন তাদের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিয়েছে। মন্ত্রী পরিষদে যে সমস্ত মন্ত্রী দুর্নীতি মুক্ত, প্রভাব মুক্ত এবং বিচক্ষন ও পারদর্শী এবং জনগনের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে পারবে এমন বাচনাই মন্ত্রীদের দায়িত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন দপ্তরে, যেমন অর্থ, বানিজ্য, পরিকল্পনা, কৃষি, খাদ্য এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এই খাত গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ন। এই সমস্ত দপ্তরে বন্টনকৃত মন্ত্রীরা যদি দেশের সার্থে, সর্ব ভৌমত্বের স্বার্থে এবং জনগনের কাছে এসে তাদের সুখ দু:খের সাথে একাকার হতে পারে তাহলে নি: সন্দেহে বলা যায় দেশ ভালোর দিকে যাবে।, শিক্ষায় কৃষিতে, খাদ্যে এবং স্বাস্থ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে আর অর্থনীতি চাঙ্গা করতে হলে এমন এক জন প্রভাবশালী রাজনীতি বিদ এবং ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন যা প্রধান মন্ত্রী নিজেই পছন্দ করেছেন এবং আমাদের ও কাছে অনেকটা পছন্দীয়। উপরোক্ত মন্ত্রনালয় গুলো যদি রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত হয় এবং দুর্নীতির সংগে জড়িয়ে না পড়ে তখনই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী সফল হবেন এবং সমগ্র বিশে^ যে চ্যালেঞ্জ ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি সফল হবেন সন্দেহ নেই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অর্থাৎ এখান থেকে ১৫ বছর আগে আওয়ামী লীগ যখন দ্বিতীয় বার ক্ষমতা গ্রহন করেন, তখন আমাদের দেশে অর্থনৈতিক মন্দা ছিল এবং বিশ^ ও ছিলো ঐ সময় অর্থনৈতিক মন্দায়। কিন্তু মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ যে মন্দা কাটিয়ে উঠেছিল এবং অনেকটা সুফল পেয়েছিল বাংলাদেশ, ঐ সময় বিশ^ বাজারে জ¦ালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় সুফল পেয়েছিল বাংলাদেশ সহ স্বল্প আয়ের অনেক দেশ। এমন কি ঐ সময়ে হঠাৎ করে খাদ্যের দামও অনেকটা কমে যায়। হ্রাস পায় মুদ্রাস্ফীতির অনেক চাপও। ফলে ঐ সময় নির্বাচিত সরকারের মাথার উপরে অনেক টা চাপ ছিলো না। বরং দায়িত্ব নিয়েই তেল, সার, ডাল, চিনি সহ অনেক দ্রব্যের দাম কমানো হয়। ২০১৪ সালে যখন আবার নির্বাচন আসলো তখন পথটা মসৃন ছিল না। রাজনীতিতে অনেক ঘোলাটে পরিবেশ ও ধুয়াশা সৃষ্টি হয়ে গেল। টানা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতে এবং বিশ^ রাজনীতির চাপে অর্থনীতির ক্ষতি ছিলো ব্যাপক, ফলে বিনিয়োগ নিয়ে আশংকাই ছিলো বেশি । তবে সহিংসতায় অনেক ধ্বংস ও ক্ষতি হয়েছে এই সুযোগ নিয়েই শুরু হয়েছিলো খেলাপি ঋন নিয়মিত করার মহা উৎসব এর মধ্যে অর্থনীতি দেখে ফেলেছে বড় বড় অনেক ঋন কেলেংকারী। সরকারের প্রথম মেয়াদেই, সকলের মনে আছে কিনা হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক ও শেয়ার বাজার কেলেংকারি ঘটে প্রথম মেয়াদেই। পরের পাঁচ বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছে কিছুটা ঠিকই একই সংগে দূর্বল হয়েছে আর্থিক খাত। এর পর আবার বাংলাদেশের সকল দলের অংশগ্রহনে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নির্বাচনে টানা তৃতীয় বারের মতো বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সে সময় ব্যাংক খাতের অবস্থা হয়ে পড়ে আরো নাজুক আর্থিক কেলেংকারি ব্যাপক ভাবে বেড়ে যায় এমন একটা পর্যায়ে পৌছে যায় যেখানে ব্যাংক কর্মকর্তারাও অতি লোভে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এর চুরির ঘটনাও ঘটে। খেলাপি ঋন ছড়িয়ে যায় প্রায় এক লক্ষ কোটি ডলারের ও উপরে। তবে সব সময়কে ছড়িয়ে গেছে এবার। এখন অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি সূচকই নিম্মমুখী, সংকট সব ক্ষেত্রেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের মতে বা তার ভাষায় অর্থনীতি এখন ঝুড়ির তলানিতে। সেই তলানী থেকে তুলে আনাই সরকারের কাছে সবচাইয়ে বড় শপথ, প্রতিজ্ঞা বা প্রতিশুতি, এক কথায় বড় চ্যালেঞ্জ, আমি মনে করি অর্থনীতি তলানীতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈশি^ক সংকটের পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুলনীতি ও অনেক খানি দায়ী। সুতরাং দেশের মধ্যে দ্বন্দ¦ ফ্যাসাদ শত্রæতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বিদেশের সরকারের আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে টানা চতুর্থ মেয়াদের এই একই দল আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জের তালিকাটাও বেশ মন্দা। সরকারকে প্রথম পদক্ষেপ সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ন হচ্ছে মুদ্রা স্ফীতি নিয়ন্ত্রন। মুদ্রা স্ফীতি নিয়ন্ত্রন ছাড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা আদৌ সম্ভব নয়। সুতরাং এ দায়িত্ব শুধুমাত্র অর্থ মন্ত্রীর নয়, প্রধান মন্ত্রীর নয়, জাতীয় সংসদে সকল সদস্যের সকল মন্ত্রী বর্গের, সকল ব্যাংকের এবং দেশের সকল প্রশাসনের এবং বিশেষ করে জনগনের সচেতনতার উপর ও অনেকটা নির্ভর করে। এর সাথে সাথে আরেকটা গুরুত্ব পূর্ন কাজ হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকানো ও ডলারের বিনিময় হারকে স্থিতিশীল করা। এ গুলো করতে পারলেই বিনিয়োগের পরিবেশ হয়তো বা কিছুটা ফিরে আসবে। তৃতীয়ত অর্থনীতিকে আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনা, সুতরাং এ জন্য সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার কোন বিকল্প নেই। বিশেষ করে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ যে উচ্চ প্রবৃদ্ধির যুগে প্রবেশ করতে পেরেছিল তার প্রধান কারন সামষ্টিক অর্থনীতি ছিল স্থিতিশীল। আর এখন এটাই হুমকির মুখে।
২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের প্রথমার্ধ শেষ। বাকি আছে শেষার্ধ অর্থাৎ জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত। সরকারের সামনে আরেক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই ছয় মাসের অর্থনীতি কে ভঙ্গুরের হাত থেকে মেরামত করা। এ জন্য আগামী বাজেট পর্যন্ত অর্থনীতিকে মেরামত বা চাঙ্গা করার জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা করা বা কর্মসূচী হাতে নেওয়া প্রয়োজন। আর তাই সম্ভব হলে সেটাই বেসরকারী খাত ও উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ইতি বাচক বার্তা দেবে। দেশে মুদ্রা স্ফীতি এখন ৯.৪২ শতাংশ, এই উচ্চ মুদ্রা স্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার আয়ে ঘাটটির কারনে ডলারের দর বেড়েই চলেছে, আমদানি নিয়ন্ত্রন করতে হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে বিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে, এতে ক্রমেই কমে আসছে রিজার্ভ যা এখন ২০ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন বা দুই হাজার আটত্রিশ কোটি ডলার । আর যদি প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ ধরা হয় তা ১৬ বিলিয়ন ডলারের কম, সুতরাং অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি মাত্র দুই দশমিক ৯১ শতাংশ, আর রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি আরও কম। মাত্র দশমিক ৮৪ শতাংশ । এই সময়ে আমদানি কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে সবচেয়ে বড় অস্তস্তির নাম আর্থিক হিসেবের ঘাটতি, যা ৫৪০ কোটি ডলার , এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ নিয়ে শংকা থেকে যেতে পারে। রাজনৈতিক অবস্থা, এক তরফা নির্বাচন, বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের উপর জুলুম, নিপীড়ন, অহেতুক মামলা, সাজা, প্রশাসন দলীয়করন, বিচারিক কর্যক্রম এবং বিশেষ করে আদালতে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা জনাব ড: মুহাম্মদ ইউনুসের শান্তি এর কোন কিছুই য্্ুক্তরাষ্ট্রে, কানাডায় , ইংল্যান্ডে, জার্মানিতে, অষ্টোলিয়াতে, নিউজিল্যান্ডে এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে এবং জাতি সংঘে বাংলাদেশ নিয়ে ভাবমুর্তি আগের তুলনায় ইতিবাচক হয়নি। বরং বেশ নেতিবাচক পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার অবস্থায় ও বাংলাদেশ নেই। সুতরাং ভরসা হচ্ছে কয়েকটি দেশ থেকে নেওয়া সরকারী ঋণ ও সংস্কার করতে পারেন বিশ^ব্যাংক, আই এম এফ সহ বহুজাতিক সংস্থার ঋণ। আর দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে দুর করতে হবে ডলার ও জ¦ালানির সংকট। কমাতে হবে ব্যবসা বানিজ্য পরিচালনার খরচ। এই কাজে গত তিন টার্ম অর্থাৎ ১৫ বছরে সরকার তেমন একটা সফল হয়নি। সতরাং এই চ্যালেঞ্জ দীর্ঘ দিনের। আগামী অর্থ বছর থেকে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে এই চ্যালেঞ্জ সরকারকে নিতে হবে। এর কোন বিকল্প পথ নেই। তা না করতে পারলে জনগনের মাথার উপর বড় ঋরনের চাপ পড়বে। তারা একে বারেই অসহায় হয়ে পড়বে। সব কিছু নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবে। জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের তালিকা ২০০৮ এ ছিলো ১৬০ জনের মত, ২০১৪ তে ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ অর্থাৎ ১৬৪ জন। ২০১৮ তে ছিল ১৭১ জনের মতো অর্থাৎ ৬২ শতাংশ আর ২০২৪ নির্বাচনে রাজনীতি বিদদের সংখ্যা মাত্র ২৬ জন এবং পেশাজীবির সংখ্যা আসছে ২৫/২৬ জনের মতো এবং ব্যবসায়ীদের সংখ্যা অনেক অনেক বড় অর্থাৎ ১৯৯ জন। তাহলে অবস্থাটা কি দাড়ালো, যারা রাজনীতি করেন তারাই তো রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। সুতরাং তাদের অবস্থা বা সংখ্যা যদি নগন্য হয় তবে অর্থনীতিতে মুক্তি সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে ব্যাংক গুলো দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ব্যবসায়ীরা বড় অংকের ঋণ গ্রহণ করবে তাতে সন্দেহ নেই। বিগত সরকারের বানিজ্য মন্ত্রী জনাব টিপু মুনসী তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কোন ব্যবসায়ী কথা শুনেননি বা কথা রাখেননি। সুতরাং সরকার কে বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল। মনে কাখতে হবে সরকারকে রাষ্ট্রের গতি নির্ধারনী ক্রমন্বয়ে ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। শুস্ক ছাড় থেকে শুরু করে ব্যাংকের নীতি বদল সহ নানা বিষয়ে সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন তারা অথচ বিনিয়োগের পরিবেশ ভাল করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান নেই বললেও চলে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শাসন আমলে দেশে মোট খেলাপি ঋন ছিল ২২ হাজার ৪২১ কোটি ৪১ লাখ টাকা । ্েসই খেলাপি ঋন এখন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা । সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) হিসেব করে বলছে গত ১৫ বছরে আর্থিক কেলেংকারির কারনে লুটপাট হয়েছে ৯২০০০ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশই পাচার হয়ে গেছে, দেশের ব্যাংক খাত পরিনত হয়েছে অর্থ আতœসাতের ক্ষেত্র হিসেবে। ব্যাবসায়ীদের সহযোগিতায় সে সুযোগ গ্রহন করছে ব্যাংক কর্মচারী থেকে বড় বড় কর্মকর্তা পর্যন্ত। উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তারাও ব্যবসায়ীদের দিক থেকে পিছিয়ে নেই। তারাও কোটি কোটি টাকা অতি স্বল্প সুদে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে গাড়ি বাড়ি কল কারখানার মালিক বনে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এবং বানিজ্য মন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রীর সুদৃষ্টি ব্যাংক খাতের কর্মকর্তাদের দিকে এ মুহুর্তে দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে ব্যাংক চলে আপামর সাধারন গরীব মধ্যম শ্রেণির ও ধনীক শ্রেণিসহ সকল জনগণের আর্থিক সহযোগিতায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি হয়ে পড়েছে অনেকটাই দুর্বল। সুতরাং নতুন মেয়াদে সরকারের কাছে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে নানা ধরনের স্বার্থনেষী গোষ্টিকে সামলানো যাতে মুক্ত হয় ব্যাংক খাত। এ ক্ষেত্রে অতি স্বচ্ছ জবাবদিহি নিরপেক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। যারা শুধু বিরোধী দলের কার কত টাকা আছে, কত সম্পদ আছে, কতটা বিল্ডিং আছে এমন করলে কিছুই হবে না, যে যেভাবে পারছে সরকারী লোকের ছত্র ছায়ায় থেকে দূর্নীতি করছে এবং কালো টাকার মালিক হচ্ছে। সেখানে দুর্নীতি দমন কমিশন হাত দিচ্ছে না। দুর্নীতি কমিশনের উচিত সকল ব্যাংকিং কর্মকর্তার আয় ব্যায়ের হিসাব এমুহুর্তে চাওয়া। তা না হলে এমন দুর্নীতি দমন কমিশন জনগণের প্রয়োজন নেই। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জেলায় জেলায় উপজেলায় এমন কি ইউনিয়ন পর্যায়ে ও যদি দক্ষ বিচক্ষন, যোগ্য কমিশন দিতে পারেন এবং সাধারন ভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেন তাহলে দূর্নীতি কমে যাবে এবং ব্যাংক গুলো সহ অন্য খাত ও দুর্নীতি মুক্ত হবে এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা আবারও আসবে। রিজার্ভের ক্রমগত পতনের মুখে আই এম এফ এর কাছ থেকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋন নিয়েছে সরকার। এর দুটি কিস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন বছরে আর ও দুই কিস্তি ঋন পাওয়ার কথা। এ কারনেও সরকার সংস্কার করতে বাধ্য। এর মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের কর ছাড় কমানো, জ্বালানি তেলের দাম, সমন্বয় করা, ভর্তূকি হ্রাস, খেলাপি ঋন কমানো, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদের তালিকা নিয়মিত প্রকাশ করা। ব্যাংক খাতের তদারকিকৃত পরিকল্পনা প্রনয়ন নীতি সুদহারের কাঠামো ঠিক করা, রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গুলো আর্থিক ঝুকি কমানো ইত্যাদি, তবে অর্থনীতি বিদরা মনে করেন আরও বেশকিছু খাতে সংস্কার করতে হবে। যেমন সরকারের ঋন নেওয়া নিয়ন্ত্রনে আনা, সরকারি ব্যায়ের গুনমান বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেওয়া। পুজি বাজারকে স্বচ্ছ করা ইত্যাদি। আধুনিক রাষ্ট্রের ভাগ্য নির্মাতা, ভাগ্য বিধাতা শাসক গোষ্টির নয়, জনগনও নয়। এ রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রন করে বিশেষ স্বার্থের জনগোষ্ঠিও সমূহ। অর্থনীতি বীদ অলসন এ সব গোষ্ঠিকে আখ্যায়িত করেছেন বন্টন মূলক জোট হিসেবে। এদের উদ্দেশ্য সমাজের বা দেশের কল্যান নয়। আতœ কল্যান এবং উৎপাদন বাড়াতে চায় না। এরা নিজের আখের গোছাতে চায়। এরা দেশের কথা ভাবে না, দেশের মানুষের কথা ভাবে না, দেশের কল্যানের কথা ভাবে না, উন্নয়নের কথা ভাবে না। এরা দেশপ্রেমহীন। এদের জন্য কেহ কাদবে না। এরা বড় স¦ার্থপর, দেশের শত্রæ, এরা বড় বিশ^াস ঘাতক, বেইমান। এরা বন্টন ব্যবস্থায় নিজেদের বখরা বড় করতে চায়। এধরনের স্বার্থ গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের জোট, পেশাদারদের সমিতি এবং কর্মচারী ও শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন, কোন গোষ্ঠীই তাদের স্বার্থের ব্যাপরে আদৌ কোন আপোষ করতে রাজী নয়। দ্বিতীয় মাহাযুদ্ধের সময় লেনিন গ্রান্ডের রনক্ষেত্রে রুশ সৈন্যরা দেশে মাতৃকার জন্য যে আবেগ ও ঐকান্তিকতা নিয়ে যুদ্ধ করেছিল তার চেয়েও অনেক বেশি হিং¯্রতা নিয়ে সংস্কারের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছে কায়েমী স্বার্থ বাদীরা। বাংলাদেশের অবস্থা বর্তমানে এ রকমই। ফলে আইএমএফ এর শর্ত মেনে চলা অতটা সহজ বলে মনে হয় না। যেমন কয়েক দিন আগের অর্থাৎ সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর পরই বলেছিলেন যে, আইএমএফ এর শর্ত মেনে রিজার্ভ বাড়ানো কোন ভাবেই সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় যারা এত দিন ধরে কর ছাড় পেয়ে আসছেন, যে খেলাপি ঋন বাড়ানো সুযোগ পেয়েছেন, ব্যাংক থেকে অর্থ আতœসাৎ করেছেন, সংস্কারের প্রধান প্রতিবন্ধকতা তারাই । নতুন অর্থমন্ত্রী হয়েছেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এত দিন অর্থনীতিতে মুল নীতি নির্ধারকের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরকে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজের কাজটি ভাল ভাবে করতে হবে। সারা বিশে^ই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ মুদ্রা স্ফীতি নিয়ন্ত্রন, জবাব দিহি সহ এই কাজ তারা ভালো ভাবে করতে পারবে, এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরই বড় চ্যালেঞ্জ অন্য দিকে বানিজ্য মন্ত্রালয়ের জন বড় চ্যালেঞ্জ হঠাৎ হঠাৎ নতুন নতুন পন্যের দর অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া ঠেকানো বা নিয়ন্ত্রন করা । সুতরাং দুটা গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয় অর্থ ও বানিজ্য যদি দেখে শুনে বুঝে সব কিছু ঠিক ঠাক নিয়ন্ত্রন বা দেখভাল কঠোর হস্তে নিরপেক্ষ ভাবে করতে পারলেই অর্থনীতি ও দ্রব্য মূল্য সহনীয় পর্যায়ে ফিরে আসবে। উচ্চমুদ্রা স্ফীতি নিয়ন্ত্রিত হবে। এ ছাড়া আরও সম্ভব হবে যদি শিল্প ও কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়ানো যায়। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পারলে জিনিস পত্রের দাম বাড়বে না। এ ক্ষেত্রে বাজার তদারকিও বাড়াতে হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। সর্বপরি যে ঋন খেলাপিরা মোটা অংকের ঋন নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে কিনা এবং দেশে কোন কাজে ব্যবহত হচ্ছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা এবং ঋন খেলাপিদের তালিকা করে তাদের নিকটে চাপ সৃষ্টি করে যতদুর আদায় করা যায় তার উপর জোর দেওয়া। উপরোক্ত চ্যালেঞ্জ গুলো সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দায় সরকারকেই নিতে হবে। এবং প্রধান মন্ত্রীকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবসময়ই, সারাক্ষন সকল মন্ত্রনালয়ে নজরদারি করতে হবে।

লেখক: জহিরুল ইসলাম শাহীন
সহঃ অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ