রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

দেবহাটায় শূন্য ভোট নিয়ে রেকর্ড ভেঙে ফেললেন চোরাকারবারি সাঈদ

খলিলুর রহমান / ৩৩২
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১

সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাতক্ষীরা দেববহাটা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। রোববার তৃতীয় ধাপে উপজেলার কুলিয়া, পারুলিয়া, সখিপুর, নওয়াপাড়া ও দেবহাটা সদর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের ১৮জন প্রার্থীসহ সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য মিলিয়ে মোট ২৫৩জন প্রার্থী একে অপরের প্রতিদ্বন্দীতা করেন।কিন্তু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা কারীদের মধ্যে এবার বিরল ইতিহাস গড়লেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের (টাউনশ্রীপুর, দাদপুর ও শিবনগর) মেম্বর প্রার্থী ও টাউনশ্রীপুর সীমান্তের শীর্ষ চোরাকারবারি আবু সাঈদ। 

এরআগে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক প্রার্থীই জনগনের ভোট বা তার পরিবারের ভোট না পেলেও অন্তত নিজের ভোটটি নিজের প্রতীকে ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু এবার নিজের ভোটটিও নিজে না পেয়ে রীতিমতো ভোটের খাতায় শূন্য নিয়ে সেই রেকর্ড ভেঙে ফেললেন চোরাকারবারি সাঈদ। রোববার দিনভর তার নির্বাচনী এলাকা টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহন পরবর্ত গণণা শেষে মেম্বর প্রার্থী ও চোরাকারবারি আবু সাঈদের এমন ফলাফল উপজেলার নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে পৌঁছালে রীতিমতো তা শুনে হাসিতে ফেটে পড়েন সেখানে উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা।সবাই একসুরে প্রশ্ন করতে থাকেন‘ চোরাকারবারি সাঈদের নিজের ভোটটা গেল কোথায়?’। তখন সবার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে ‘ অর্থবিত্ত আর প্রভাব থাকা স্বত্বেও চোরাকারবারিরা যে প্রকৃতপক্ষে সমাজে ঘৃনীত, নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছেন জনগন’। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, স্ত্রীসহ সাঈদের পরিবার বা তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের ভোট এমনকি তার নিজের ভোটটাও কিভাবে পাননি তিনি।


উল্লেখ্য, সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের তিনটি গ্রাম মিলিয়ে সেখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ১৭৩১ জন। সেখানে চোরাকারবারি সাঈদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দীতা করেন জুলফিকার আলী, তরিকুল ইসলাম, মাহবুবর রহমান বাবলু। নির্বাচনে বেশিরভাগ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান মেম্বর মাহবুবর রহমান বাবলু।

এলাকাবাসি জানায়, গেল কয়েকবছর ধরে উপজেলার টাউনশ্রীপুর, শিবনগরসহ আশপাশের সীমান্ত এলাকায় বিজিবিকে ম্যানেজ করে চোরাচালানের রামরাজত্ব কয়েম করে আসছিল আবু সাঈদ। একসময়ে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা থাকলেও, এখন সাঈদের অঢেল সম্পদ। চোরাচালান করে অর্জিত কালোটাকায় হাকিয়েছেন বিলাসবহুল বাড়ি, পাল্টেছেন লাইফস্টাইলও। কিন্তু এতোকিছুর পরও তিনি যে মানুষের কাছে এখনও ঘৃনীত ও ধীকৃত তা নির্বাচনে তাকে হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন সেখানকার ভোটাররা। 


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ