শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

দলিত ও মুন্ডা সম্প্রদায়ের ২২০ যুব নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে স্বদেশ’র প্রশিক্ষণ সমাপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৫
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১

সাতক্ষীরার তালা ও শ্যামনগর উপজেলায় দলিত ও আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া যুব নারী সদস্যদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন স্বদেশ দাতা সংস্থা ইউএনডিপি’র আর্থিক সহযোগিতায় ইউএনডিপি-এইচআরপি প্রকল্পের আওতায় তালা উপজেলায় ১১০ জন দলিত নারীকে এবং শ্যামগনর উপজেলায় আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের ১১০ জন নারীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারীদের দর্জি, হাস-মুরগি পালন ও ছাগল পালন এবং সবজি চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২২০ জন নারী পরবর্তীতে যাতে নিজে উদ্যোক্তা হিসেবে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং পরিবারকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করতে পারে সেজন্য তাদেরকে প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন, হাস-মুরগি, ছাগল ও বীজ এবং নগদ অর্থ সরবরাহ করা হচ্ছে। উদ্যোক্তা নারীদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য স্বদেশ এই প্রকল্পের আওতায় একটি অনলাইন হাব তৈরির চেষ্টা করছে।

আদিবাসী মুন্ডা ও দলিত সম্প্রদায়ের যুব নারীদের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করতে দ্বদেশ প্রথমে শ্যামনগর উপজেলায় মুন্ডা সম্প্রদায়ের মধ্যে এবং তালা উপজেলায় দলিত সম্প্রদায়ের মাঝে জরিপ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। সেখান থেকে পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২২০ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। প্রশিক্ষণ পাওওয়া ২২০ জন নারীর বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩০ এর মধ্যে।

প্রশিক্ষণ পাওয়া মুন্ডা সম্প্রদায়ের নারী নমিতা মুন্ডা বলেন, ‘আমি দর্জি প্রশিক্ষণ পেয়েছি। স্বদেশ এই প্রকল্পের আওতায় আমাকে সেলাই মেশিন সরবরাহ করবে। আমি সেলাই মেশিন নিয়ে কাজ করে নিজে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। সাথে সাথে আমার পরিবারের আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা বাড়াতে চাই। এই প্রশিক্ষণ আমাকে নতুনভাবে চিন্তা করতে শিখিয়েছে। আমি এখান থেকে উপকৃত হবো’।

একাদশী মুন্ডা বলেন, ‘আমি ছাগল পালন প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রকল্পের আওতায় আমাকে ছাগল দেওয়া হবে। আমি এই ছাগল পালন করে পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবো এবং নিজে স্বাবলম্বী হব।

তালার দলিত যুব নারী স্বপ্না দাশ বলেন, আমি স্বদেশ’র উদ্যোগে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। প্রশিক্ষণে পাওয়া সেলাই মেশিন নিয়ে আমি দর্জির দোকান দেবো। সেখান থেকে উপার্জিত অর্থ আমার পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করবে’।

রিংকু দাশ বলেন, ‘আমি ছাগল পালন প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে আমি বাড়িতে ছাগলের খামার পরিচালনা করবো। আশা করছি এই ছাগলের খামার একসময় অনেক বড় হবে। আমার খামার থেকে ছাগল বিক্রি করে আমি আমার পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে চাই এবং নিজে একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হতে চাই।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ