রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্রে জন্ম নিবন্ধন নিয়ে চলছে ব্যাপক বাণিজ্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০৩
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ মে, ২০২২

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম, হয়রানি ও ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের আবেদনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মোমিনের বিরুদ্ধে। এছাড়া স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির সাথে গভীর সখ্যতা থাকায় ইউনিয়নের সচিবকে না জানিয়ে নিজের ইচ্ছামত কাজ করা, বেলা ১২ টার দিকে তথ্য সেবা কেন্দ্রে এসে আবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ীতে চলে যান। যার কারনে ইউনিয়নের ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্র প্রায় সকল ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগে জানাগেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ইউনিক আইডি সংক্রান্ত কাজে জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আবেদনের নামে অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছে উদ্যোক্তা মোমিনুর রহমান (মোমিন)। দাবিকৃত টাকা না দিলে বিভিন্ন কাজে আসা মানুষদের সাথে দুর্ব্যবহার ও ব্যাপক হয়রানি করছে। যদিও অতিরিক্ত টাকা দিলে মিলছে জন্ম নিবন্ধন সনদসহ সকল প্রকার কাজ। সাবেক ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) জহুরুল ইসলাম জানান, আমি নিজেই জন্ম নিবন্ধন সনদের আবেদন করতে দীর্ঘদিন তথ্য সেবা কেন্দ্রে যাচ্ছি কিন্তু সার্ভারে সমস্যার কথা বলে আমাকে হয়রানি করছে মোমিন। আবার অনেক সময় তিনি তথ্য সেবা কেন্দ্রে আসেন না। এবিষয়ে তিনি বর্তমান ইউপি সচিবকে জানালেও (সোমবার) পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। জনগনের সেবা দেয়ার জন্য ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রগুলি এসব দুর্নীতিবাজদের কারনে সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলছে। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাথরঘাটা এলাকার এক তরুণী অভিযোগ করে বলেন, ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ইউপি সচিব আমাকে ডিজিটাল তথ্য সেবা কেদ্র থেকে আবেদন করার জন্য বলেন। পরে সেখানে ওখানে যাওয়ার পর তিনি নেটওয়ার্কের সমস্যার কথা বলে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখে। পরে সনদটি আমার জরুরী প্রয়োজন বলে তাকে তিনি (মোমিন) এক হাজার টাকা নিয়ে আবেদন ও একদিন পরেই জন্মনিবন্ধন সনদটি আমার হাতে দেন। উক্ত তরুণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি তিনি এক জনপ্রতিনিধি ও ইউপি সচিবকে জানিয়েছিলেন কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং দুর্নিতীবাজ উদ্যোক্তা মোমিনের পক্ষে কথা বলেন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউপি কার্যালয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ জন্মনিবন্ধনের জন্য আসেন। তাঁদের অনেকের কাছ থেকে উদ্যোক্তা মোমিনের অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত শিশুর জন্য ২৫ টাকা ও ৫ বছরের ওপর সবার জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য ৫০ টাকা করে ফি দিতে হয়।

ইউনিয়নের দেবনগর, বলাডাঙ্গা, পাথরঘাটা, গোবিন্দকাটিসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তথ্য সেবা কেন্দ্রে যে কোন কাজে উদ্যেক্তা মোমিনের দাবিকৃত টাকা না দিলে দিনের পর দিন তথ্য সেবা কেন্দ্রে ঘুরতে হবে তবুও কাজ হবে না। আবার চাহিদামত টাকা দিলেই সার্ভার বা নেটওয়ার্কের কোন সমস্যা থাকে না সাথে সাথে কাজ করে দিবে। এমন উদহারন ইউনিয়নে হাজার হাজার রয়েছে। রনি নামে এক যুবক বলেন, ডিজিটাল জন্মনিবন্ধনের জন্য মোমিনুরকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিলেও সে দীর্ঘদিন ঘুরিয়ে এবং অনেক হয়রানি শেষে আমার সনদটি দিয়েছে। ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন, মানুষের হয়রানি ও নিয়মিত তথ্য সেবা কেন্দ্রে না আসার অভিযোগের বিষয়ে উদ্যেক্তা মোমিনুর রহমান বলেন, এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। তিনি বলেন, সার্ভারে সমস্যা থাকায় আবেদন করতে দেরি হচ্ছে। তবে, মাঝেমধ্যে দেরি করে আসার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জন্ম নিবন্ধন সনদ বা অন্য যেকোন সেবার সনদ দেয় ইউপি সচিব এখানে আমি অতিরিক্ত টাকা নিবো কিভাবে। তবে, আবেদন করতে এসে অনেকে খুশি হয়ে চা-পান খেতে টাকা দেয়। এগুলিতো আমি জোর করে আদায় করি না। এসময় তিনি সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে ঝাউডাঙ্গা ইউপি সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তা মোমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে আমার কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ কেউ করেনি। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভায় চেয়ারম্যানসহ সকল জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করবেন বলে জানান। ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রে অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে জানতে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আজমল উদ্দীনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ