HEADLINE
ভারত থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশের ফেরার সময় ইমিগ্রেশনে পাসপোর্টযাত্রীর মৃত্যু দেবহাটা প্রেসক্লাবের বার্ষিক সভায় বর্তমান কমিটির মেয়াদ বর্ধিত; সদস্য অন্তর্ভূক্তির লক্ষ্যে উপ-কমিটি ঝাউডাঙ্গায় ৭১ সালের বালিয়াডাঙ্গা যুদ্ধের স্মৃতি চারণে আলোচনা সভা ৪র্থ বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কলারোয়ার যুগিখালীর ইউপি সদস্য মফিজুল সাংবাদিক আজিজুল’র মৃত্যুতে সাতক্ষীরা সাংবাদিক সমিতির গভীর শোক সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে ইঁদুর মারা বিদ্যুতের ফাঁদে জড়িয়ে দু’জনের মৃত্যু বাংলাদেশ ভারত এর বন্ধুত্ব বিশ্বে রোল মডেলঃ নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী সাতক্ষীরায় গোপন বৈঠক কালে জামায়াতে ইসলামীর ১০ মহিলা নেতাকর্মী আটক ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা উপলক্ষে মাধবকাটি বলফিল্ড মাঠে উৎসবের আমেজ পরীক্ষার সময় পরিবহন চলা নিয়ে নিশ্চিত নয় জবির পরিবহন পুল
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

ঝাউডাঙ্গায় বেতনানদীর পানিতে এলাকায় জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

মোমিনুর রহমান সবুজ / ৩১২
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গায় বেতনা নদীর উপচে পড়া পানিতে নতুন করে এলাকা প্লাবিত হওয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চত্তর, তরকারি বাজার, মাছ বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় হাঁটু সমান পানি ঢুকে পড়েছে। বেতনানদীর উপচে পড়া পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে ঝাউডাঙ্গা ঘোষ পাড়া, পূর্বপাড়া, ওয়ারিয়া, হাচিমপুর, হাজিপুর, রাজবাড়িসহ কয়েকটি এলাকায় প্রায় শতাধিক পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। ভাঙন আতংকে নদীর পাড়ে বসবাসরত বাসিন্দারা। ঝাউডাঙ্গা গ্রামের উজ্জল ঘোষ, পংকজ ঘোষসহ অনেকে জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বেতনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়াই নদীর উপচে পড়া পানিতে এসব এলাকায় পানি ঢুকছে। তারা আরো জানান, দীর্ঘদিন খনন না করায় এক সময়ের প্রমত্তা বেতনানদীতে বন্ধ হয়ে গেছে নদীর জোয়ার-ভাটা। সেই সাথে চিরচেনা বেতনানদী এখন কচুরিপানায় দখল করে নিয়েছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দা আবু সাঈদ, আমির হোসেন, আব্দুল করিম জানান, আমাদের ধারনা হয়ত আর বেতনা নদী খনন হবে না ! দীর্ঘ দিন ধরে শুনে আসছি নদীটি এবার কাটা হবে। কিন্তু কোন কর্মকর্তার কোন খোঁজ খবর পাইনি। তারা জরুরী ভাবে বেতনা নদী খননের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানান। এদিকে গত কয়েক বছর যাবত জমাট কচুরিপানার মধ্যে বিভিন্ন এলাকার ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দূষিত হয়ে উঠেছে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ। এছাড়া সম্প্রতি কয়েক দিনের বৃষ্টিতে যৌবনহারা বেতনা নদীর পানি উপচে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের অধিকাংশ আবাসিক এলাকা, ফসলের মাঠ, মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন স্থান প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয় পরিবেশবাদী সচেতন মহল পুনরায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশংখা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন নদী খনন না করায় একদিকে এলাকার পরিবেশের ভারসম্য নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। তারা আরো বলেন, দীর্ঘদিন যাবত বেতনা নদী বাচাঁও আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ এলাকার পরিবেশ রক্ষায় এবং দূষিত পানি থেকে মুক্তি, উপচে পড়া পানিতে ভেসে যাওয়া মাছের ঘের, ফসলী জমি রক্ষায় অবিলম্বে ভূমি দস্যুদের কবল থেকে রক্ষা, নদীকে জমা পলি অপসারন, কচুরিপানা উচ্ছেদ ও নদীতে জোয়ারভাটায় টিআরএম পদ্ধতি চালু করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন করলেও সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন না করায় এখন ভয়াবহ দূষিত পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে তীরবর্তী গ্রামবাসীদের। এসব মহলের প্রতিনিধিরা তাদের দাবি করে জানান, অতি দ্রুত বেতনা নদী খনন করা না হলে দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে সময়ের প্রমত্তা এই নদীটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলারোয়া পৌরসদরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বিনেরপোতা হয়ে দেশের পুর্ব-দক্ষিনে বুধহাটা বড়দলের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কপোতাক্ষ নদে মিলিত হয়েছে বেতনা নদী। ২৫/ ৩০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা নদী পথে ব্যবসা-বানিজ্যের জন্য এ বেতনা নদী দিয়ে যাতায়াত করতো। এর ফলে ব্যবসা-বানিজ্যের অন্যতম নদী বন্দর গড়ে উঠেছিলো ঝাউডাঙ্গা, কলারোয়া, সাতক্ষীরা, পাটকেলঘাটা, তালাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া উপকুলবর্তী উপজেলা গুলো থেকে পাইকারী ব্যাবসায়ীরা বড় বড় নৌকা যোগে বেতনা নদী দিয়ে মালামাল নিয়ে কেনা-বেচা করতে আসত। সে সময় বেতনা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে নদী বন্দর গড়ে উঠায় এলাকার সাধারন মানুষের কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি হয়েছিলো। কিন্তু কালের আবর্তে আজ সেই বেতনা নদীতে পলী জমে ও ভূমি দস্যুদের অবৈধ দখলের কারনে জোয়ার-ভাটাহীন মরা খালে পরিনত হয়েছে। আর নদীতে ফেলা ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে নষ্ট হচ্ছে ঝাউডাঙ্গার পরিবেশ অন্যদিকে প্রতি নিয়ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখিন হচ্ছে সাতক্ষীরা জেলা। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা ইউনিয়নের হাচিমপুর গ্রামের কৃষক মহিতোষ ঘোষ জানান, গত ১৫/১৬ বছর যাবত নদী পুন:খনন করার দাবিতে রাজপথে আন্দোলন হয়েছে কিন্তু আজও নদী খননের ব্যবস্থা হয়নি। ফলে পলি মাটি জমে নব্যতা হারিয়ে বেতনা নদী ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। আর এ সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা (ভুমি দস্যু হিসেবে পরিচিত) বিভিন্ন সময়ে নদীর মাঝে বাধ দিয়ে মাছ চাষ, নদী তীরবর্তী চরে অবৈধ দখল করে পাকা বাড়ী-ঘর, দোকান নির্মান করছে এছাড়া চর দখল করে তারা অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার ফলে বেতনা নদী এখন সংকুচিত হয়ে স্রোতহীন (জোয়ার-ভাটা বন্ধ) হয়ে পড়েছে। এদিকে স্রোত না থাকায় নদীতে শেওলা, কচুরীপানা জমে থাকা এবং নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মল, আবর্জনাসহ বিভিন্ন নষ্ট জিনিস ফেলায় সেগুলি পচে দূর্গন্ধ চড়াচ্ছে যা পরিবেশের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। দ্রুত নদী খনন করে আবারো মুল স্রোতের ধারায় ফিরিয়ে এনে জলাবদ্ধতা দুর করা এবং অবৈধ্য দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রমত্তা বেতনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।

ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজমল উদ্দিন জানান, বেতনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ইউনিয়নে কয়েকটি এলাকা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নদীতে কচুরিপানায় ভরে থাকায় পানি নিষ্কাশনে বড় বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান তিনি। বেতনানদী খননসহ নদীর নাব্যতা ফিরে পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ