কেশবপুরে মাটিরশিল্পের কারিগরদের দুর্দিন

কেশবপুরে মাটিরশিল্পের কারিগরদের দুর্দিন

উৎপল দে, কেশবপুরঃ যশোরের কেশবপুরের মৃৎ শিল্পের দুর্দিন চলছে। করোনাকালীন সময়ে ব্যবসায়ে মন্দাভাব চলছে। মৃৎ শিল্পীর হরেক রকমের সামগ্রীর কদর কমে যাওয়ার অনেকের ভাগ্যেও চাকা ঘুরছেনা নিপুণ হাতের ছোয়ায় নানা ধরণের তৈরী করার কারিগরদের। পাল বংশের কুমারদের ব্যবসায় দিন দিন যেন মন্দা ভাব বেড়েই চলেছে। তবুও থেমে নেই তারা মাটির নানা উপকরণ তৈরী করছে তারা। উপজেলার আলতাপোল, বরনডালী, গোপালপুর, বুড়িহাটী, গৌরীঘোনা, ভেরচী, বুড়–লী, কলাগাছি গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের মৃৎশিল্পীরা বংশপর¤পরায় বাপ-দাদার এ আদি পেশাটি আকড়ে ধরে আছেন। কেশবপুর উপজেলার মৃৎ শিল্পীরা এখন খেজুরের রস, গুড় সংরক্ষণের জন্য ভাড়, কলসী, সড়া, গøাস, মাটির হাড়ি, পুতুল, পিঠা বানানোর ছাচ, টালী, জালের চারা, দই এর খুলি,গুড়ের ঠিলা, ঘট তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।কেশবপুর ছাড়াও মনিরামপুর, রাজগঞ্জ, রাজারহাট,চুকনগর থেকে ক্রেতারা পাইকারি কিনে নিয়ে যায় কেশবপুরের আলতাপোল গ্রামের মৃৎ শিল্পী নিতাই পাল জানান-প্রায় ৩০ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত আছেন এবং তার আয়ের প্রধান উৎসই এটি। বর্তমানে ব্যবসায় মন্দা ভাব চলছে। তবে শীতকালীন সময়ে খেজুরের রস সংরক্ষণের জন্য ভাড়বিক্রি তুলনামূলক বেশী। প্রতি পিচ ভাড়ের খুচরা মূল্য নেন ২০ টাকা, তবে বেশি নিলে ১৬/১৭ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। কলাগাছি গ্রামের লিপিকা পাল , গণেশ পাল বলেন আমাদের এখানে গুড়ের ঠিলা, হাড়ি ও কলসীর কদর বেশী । বর্তমানে কেনাবেচা কম।

এছাড়াও আলতাপোল এলাকায় মৃৎ শিল্পী পেশার সাথে জড়িত আছেন সন্তোষ পাল, বিকাশ পাল, জয়দেব পাল, নারায়ন পাল সহ আরও অনেকেই বলেন করোনা কালীন সময়ে আগের মতন এখন ব্যবসা নেই। কনো রকম দিন যাপন করছি। সরকারি পুৃষ্ঠপোষকতা পেলে কিছুটা এগিয়ে যেতে পারবে বলে তারা মনে করেন।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন