কেশবপুরের পাঁজিয়া সড়ক পুকুরে যাওয়া উপক্রম : দ্রুত সংস্কারের দাবী

কেশবপুরের পাঁজিয়া সড়ক পুকুরে যাওয়া উপক্রম : দ্রুত সংস্কারের দাবী

উৎপল দে, কেশবপুরঃ যশোরের কেশবপুরের পাঁজিয়ায় সড়ক পুকুরে গিললেও নজর নেই কারোর।সড়কের পাশে পুকুর ও মাছের ঘেরে রাসায়নিক সার ব্যবহার করায় মাটি ধসে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

ক্ষতি হচ্ছে গ্রামীণ অবকাঠামোর। ওই রাস্তাটিও মাটি ধসে পুকুরে বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাঁজিয়া বাজারের পশ্চিম দিক থেকে এডাস স্কুল ও এম এম দাখিল মাদ্রাসা হয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল করায় মাহাবুর রহমানের পুকুর পাড়ে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। জনবহল রাস্তাটি দিয়ে প্রায় ছয় সাত গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। দ্রæত পুকুরের ভেতর বেড়িবাঁধ দেয়া না হলে যে কোনো সময় পুকুরের ভিতর সড়কটি ধসে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্বকভাবে ব্যহত হতে পারে। সরেজমিন রোববার গিয়ে দেখা যায়, ওই সড়কের পাশে পাঁজিয়া গ্রামের মাহাবুর রহমানের সাড়ে তিন বিঘা একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটিতে কয়েক বছর মাছ চাষ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স¤প্রতি পুকুরে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে মাছ চাষ করায় সড়কের পাশের মাটি নরম হয়ে গেছে। যে কারণে ভারি যানবাহন চলাচল করায় পুকুরের পাশ দিয়ে সড়কে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটলটির মধ্যে ভিতবালি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এতে যে কোনো সময় ওই ফাটলের ভেতর যানবাহনের চাকা আটকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা করছেন। বালির পাশ দিয়ে নতুন করেও ফাটল শুরু হয়েছে। পাঁজিয়া এডাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়দেব মিত্র বলেন রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। রাস্তাটি সংস্কার প্রয়োজন ।
পাঁজিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, মাছ চাষ করতে গিয়ে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করায় পুকুর পাড়ের বিভিন্ন গাছের নীচ দিয়ে মাটি সরে তলা ফাঁকা হওয়ায় পাড়সহ রাস্তাটিতে ফাটল ধরেছে।
যা অচিরেই পুকুরে ভেঙে পড়বে।ওই এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক নেতা আশুতোষ বিশ্বাস জানান, সড়কটি দিয়ে চলাচল করা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পুকুরে মাছ উৎপাদনকারী আজিজুর রহমান বলেন, মাত্র আট মাস মাস আগে তিনি ওই পুকুরটি হারি নিয়েছেন। পুকুরে মাছের ডিম থেকে পোনা উৎপাদন করা হয়। চারা পোনা মাছ চাষে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। শুধুমাত্র খৈল ও ভ‚ষি মাছের খাবার হিসেবে দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, মালিক চায়লেই মাছ ধরে নিয়ে পুকুর ছেড়ে দেয়া হবে।পুকুর মালিক মাহাবুর রহমান বলেন, পুকুরে কখনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। ওই সড়কে ভারি যানবাহন যাওয়ার কারণে পুকুর পাড়ের মাটি ধসে ফাটলটির সৃষ্টি হয়েছে। ফাটল এলাকায় যে সমস্ত গাছপালা রয়েছে ওগুলো দ্রæত কেটে ফেলা হবে।

এ ব্যাপারে পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ওই সড়কে মাহাবুর রহমানের পুকুর পাড়ের ফাটলটির বিষয়ে জানতে পেরেছি। পুকুর মালিককে দ্রæত সড়কের পাশে বেরিবাঁধ তৈরি করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন