বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৪১ অপরাহ্ন

কুলিয়ায় আছাদুল হকের অফিস ভাংচুর, কর্মীদের মারপিট ও গৃহবধূর শ্লীলতাহানি

দেবহাটা প্রতিনিধি / ৮৯
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আছাদুল হকের নির্বাচনী অফিস ভাংচুরসহ তার সমর্থকদের উপরে হামলা মারধর ও এক গৃহবধূকে শারীরিকভাবে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে সেখানকার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুল ইসলামসহ তার কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বুধবার বিকালে ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দেউকুল এলাকায় এঘটনা ঘটে। সরেজমিনে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচন কমিশন ও উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বুধবার বিকেলে কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে নৌকার প্রার্থী আসাদুল ইসলাম নির্বাচনী শোডাউন দিচ্ছিলেন। এসময়  দেউকুল এলাকায় ঘোড়া প্রতিকের নির্বাচনী অফিসের সামনে অন্তত দুই শতাধিক সমর্থকসহ ৪০/৫০ টি মোটর সাইকেলে থামিয়ে ঘোড়ার প্রার্থীসহ ঘোড়া প্রতিকের কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুল ইসলাম। এঘটনার প্রতিবাদ করলে ওই ইউনিয়নের ২৮ বছরের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আছাদুল হকের সমর্থক দেউকুল গ্রামের বাসিন্দা কাশেমের ছেলে  আলমগীর হোসেন, শফিকুল ইসলাম, হেনা বিশ্বাসের ছেলে সাঈদ বিশ্বাস, শফিকুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুন, ছেলে শরিফুল ইসলাম বাবু ও রনি বিশ্বাসের উপর চড়াও হয়ে কথা কাটাকাটি শুরু করেন আসাদুল ইসলামসহ তার সমর্থকরা। একপর্যায়ে আসাদুল ইসলাম সেখানে দাড়িয়ে থেকে তার কর্মী বাহিনী দিয়ে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আছাদুল হকের কর্মী সমর্থকদের উপরে হামলা হামলা চালান। এসময় আছাদুল হকের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করতে থাকেন আসাদুল ইসলামের কর্মী সমর্থকরা। মারপিটকালে প্রানভয়ে ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক আলমগীর ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, রনি বিশ্বাস, সাঈদ বিশ্বাস পালিয়ে গেলে তাদেরকে ধাওয়া করে আসাদুল ইসলামের সমর্থকরা। একইসাথে শফিকুল ইসলামকে মারধরসহ গৃহবধূ আলেয়া খাতুনকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করেন তারা। তাদের হামলায় আলেয়া খাতুনের পরনের কাপড়ও ছিড়ে যায়। এমনকি আলেয়া খাতুনের কান ছিড়ে স্বর্নের দুলও ছিনিয়ে নেন নৌকার প্রার্থী আসাদুল ইসলামের কর্মী সমর্থকরা।
এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আছাদুল হক বলেন, নির্বাচনে জনসমর্থন হারিয়ে নৌকার প্রার্থী আসাদুল ইসলাম বর্তমানে উন্মাদ ও হিংস্র হয়ে উঠেছে। বর্তমানে আমি জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকায় নিশ্চিত পরাজয় জেনে গোটা ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টির চেষ্টা করছে আসাদুল ও তার কর্মী সমর্থকরা। তিনি আরোও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সকল প্রার্থীকে দলবল ছাড়াই একা যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন। আমরা প্রশাসনের সেই নির্দেশ মানলেও, নৌকার প্রার্থী আসাদুল ইসলাম প্রতিনিয়ত অর্ধশত বা শতাধিক মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা চালানো নামের আমার অফিস ভাংচুর, কর্মীদের হুমকি ও মারধর করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। এব্যাপরে প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনকে বারবার জানিয়েও আশানুরুপ কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ তুলে আছাদুল হক বলেন, দেউকুলে আমার নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাংচুর করার পর হিজলডাঙ্গায় ৮নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ আমার সমর্থক বিশু’কে হুমকি দেয়া হয়েছে। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে ৪০/৫০টি মোটর সাইকেলে নৌকার প্রার্থী আসাদুল ইসলামের দেড় শতাধিক লোকজন লাঠিশোঠা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সুবর্ণাবাদ বাজারে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এমন মুহুর্তে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করলেও তিনি তার ফোন রিসিভ করেননি বলেও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এঘটনার আগেরদিন মঙ্গলবার রাতেও বহেরায় তার ভাই রোকনকে নৌকার প্রার্থী আসাদুল ইসলামের লোকজন মারপিট করতে যায় বলেও অভিযোগ করেন আছাদুল হক।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নৌকার প্রার্থী আসাদুল ইসলামের সাথে মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এব্যপারে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ ওবায়দুল্লাহ জানান, নির্বাচন সন্নিকটে আসায় কুলিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। দেউকুলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও মাঝেমধ্যে এধরনের বিশৃঙ্খলার তথ্য আমরা পাচ্ছি। এসব বিষয় নিয়ে প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছেন।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ