HEADLINE
কালিঞ্চী এ. গফ্ফার মাধ্যঃ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বন্দে আদালতে মামলা বৈকারীতে ১’শ পিস ইয়াবাসহ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার রাত পোঁহালেই দেবহাটা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ নেতাকে অস্ত্রকান্ডে ফাঁসিয়ে ভারতে পালালেন মূলহোতা নির্বাচন নিয়ে ভাবার কিছু নেই, আমরা গণতান্ত্রিক দল : সাতক্ষীরায় আ.ক.ম মোজাম্মেল হক কুলিয়ায় পানিতে ভাসছে কাফনের কাপড় পরিহিত লাশ সাতক্ষীরায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা: তদন্ত পিবিআইতে সাতক্ষীরায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়ী বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত কলারোয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ২৫ ইভটিজিং প্রতিরোধে আমাদের করণীয়
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

কলারোয়ায় টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮৫
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় টিআর, কাবিখা, কাবিটার ১১৮ প্রকল্পের অনুকুলে ৬টি ইউনিয়নে বরাদ্ধ প্রায় দেড় কোটি টাকার সিংহভাগ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে এই প্রকল্পের বেশী ভাগ ক্ষেত্রে কাজ না করে এবং একই প্রকল্পে একাধিক বরাদ্ধ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা
যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে উপজেলার জয়নগর, জালালাবাদ, কয়লা, কুশোডাঙ্গা, দেয়াড়া ও যুগিখালি ইউনিয়নে এমপি ও উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ৩ ধাপে বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এরমধ্যে টিআরের ৬৭টি প্রকল্পের আওতায় ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৪ টাকা ও
কাবিটার ৪২টি প্রকল্পে ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ টাকা এবং কাবিখার ৪টি প্রকল্পে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরেজমিনে, কোথাও প্রকল্পের বিবরণ সম্বলিত সাইন বোর্ডের অস্বিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে বিধি লংঘন ছাড়াও সাইন বোর্ড বাবদ বরাদ্ধ বিপুল অংকের টাকা লোপাট করা হয়েছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে তালিকা সংগ্রহ করে সরেজমিনে দেখা যায়, ১নং জয়নগর ইউনিয়নের খোর্দ্দ বাটরা নগেন কবিরাজের বাড়ি হতে দক্ষিণে বিল অভিমুখে রাস্তা সংস্কারে বরাদ্ধ ১ লাখ ২৪ হাজার ৪০০ টাকা, জয়নগর শীতলতলা হতে কপোতাক্ষ নদী অভিমুখে রাস্তা সংস্কার ও ইটের সোলিংকরণে ২ লাখ টাকা, উত্তর জয়নগর দক্ষিনপাড়া জামে মসজিদের পাশ হতে পশ্চিমে কামাল খাঁর ডিপ অভিমুখে রাস্তা সংস্কারে বরাদ্ধ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার কোন কাজ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা সন্তোষ গুপ্ত, ফুলকুমারী, আব্দুল মান্নান, তানজিলা ও মুকুল জানান। এভাবে বিভিন্ন রাস্তা ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারে মোট ১৮টি প্রকল্পে ইউপি চেয়ারম্যান তার আস্তা ভাজন ইউপি সদস্য ও স্বজনদের সভাপতি করে বরাদ্দকৃত টাকার
সিংহভাগ হরিলুট করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিশাখা সাহা বলেন, আমরা সময়মতো কম বেশী কাজ করছি। কিন্ত বিগত চেয়ারম্যানের আমলে তো কোন কাজ হয়নি। ২নং জালালাবাদ ইউনিয়নে আহসাননগর কাদেরের বাড়ি হতে আতিয়ার সানার বাড়ির অভিমুখে মাটির রাস্তা সংস্কারসহ রাস্তায় আরেকট প্রকল্পে ৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্ধ হয়। দুটি প্রকল্প বরাদ্ধ নিয়ে আনুঃ ১০ হাজার টাকার মাটির কাজ করে বাকী টাকা বেমালুম গায়েব হয়েছে বলে স্থানীয় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আকরাম হোসেন বৃদ্ধ বলেন এক গুলিতে দুই পাখি মেরেছে। প্রকল্পের সভাপতি সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান
আবুল কালাম বলেন, চৌকিদার ও ইউপি মেম্বর দিয়ে ওই কাজ সময়মতো করানো হয়েছিল। এছাড়া ফয়জুল্লাহপুর শামসুর শেখের বাড়ি হতে কর্মকার পাড়া পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট ও ইটের সোলিংয়ে ২ লাখ টাকার কোন কাজ হয়নি। প্রকল্পের সভাপতি আজিবর রহমান বলেন, কম বেশী কাজ করা হয়েছে, তবে মাটির অভাবে পরিপূর্ন কাজ করতে পারিনি। জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ সংস্কার ও আসবাবপত্র ক্রয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার কোন কাজ হয়নি বলে এলাকার রিজিয়া খাতুন ও নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, পরিষদে কোন আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়নি। প্রকল্প দ্বয়ের সভাপতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান নিশান বলেন, কমবেশী আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সেগুলো রংও করা হয়ে গেছে। এভাবে এ ইউনিয়নেও ১৮টি প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ না করে বরাদ্ধকৃত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কয়লা ইউনিয়নে কুমারনল আনারুলের বাড়ি হতে আয়ুব সরদারের বাড়ি অভিমুখে রাস্তার এজিংয়ের দুই পাশে মাটি ভরাটে ৪.০৩৬৭ মেট্রিক টন চাল, কুমারনল ইব্রাহিম পাড়ের বাড়ি হতে নুর ইসলাামের বাড়ি অভিমুখে মাটির রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ টাকা এবং কুমারনল সবুজের মিল হতে সোবহান দফাদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা ভরাট ও ইটের সোলিং করণে ২ লাখ টাকা, কুমারনল আজিবর মেম্বরের ডিপের মোড় হতে মুজিবর মাস্টারের বাড়ির পাশ দিয়ে মতিয়ার সরদারের বাড়ি অভিমুখে মাটির রাস্তা সংস্কারে বরাদ্ধ ১৬.৫৫৫৪ মেট্রিক টন গমের কোন কাজ না করে সম্পূর্ণ বরাদ্ধ বেমালুম হজম করা হয়েছে বলে কুমারনল গ্রামের রাজ্জাক সরদার, আক্তারুল ইসলাম ও হায়দার, ছাত্র আশিক, মাজেদ জানান। প্রকল্প সমূহের সভাপতি মুনছুর আলী বলেন, কাজ করা হয়নি। তবে কাজ করা হবে। এভাবে ৩নং কয়লা ইউনিয়নে বিভিন্ন রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানের নামে ২২টি প্রকল্প দেখিয়ে কম বেশী কাজ দেখিয়ে অধিকাংশ বরাদ্দকৃত টাকা হরিলুট
করা হয়েছে। উপজেলার ১০নং কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের শিবানন্দকাটি অরুপ ঠাকুরের বাড়ি হতে শ্মশান ঘাট রাস্তা সংস্কারে বরাদ্ধ ২ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা, শিবানন্দকাটি রফিকুলের বাড়ির পাশ থেকে মোবারকের বাড়ি অভিমুখে মাটির রাস্তা সংস্কারে বরাদ্ধ ১ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ টাকার কোন কাজ হয়নি বলে স্থানীয় অধিবাসি অনিল, পরিতোষসহ অনেকেই জানান। প্রকল্প দুটির সভাপতি লক্ষন দে ও হাসিনা বলেন, আমাদেরকে নামে মাত্র সভাপতি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা চেয়ারম্যান ভাল বলতে পারবে। এভাবে কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নে
১৭টি প্রকল্পে বরাদ্ধ সিংহভাগ টাকা লোপাট করা হয়েছে। উপজেলার ১১ নং দেয়াড়া ইউনিয়নে ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে পশ্চিম খোরদো বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের বাড়ি হতে ইদগাহ অভিমুখে মাটির রাস্তার সংস্কারে ২ লাখ ৯১ হাজার ৭০০ টাকা, দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ দ্বারে সম্মুখে গেট হতে কার্পেটিং পর্যন্ত রাস্তা এইচবিবি করণে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮০০ টাকা, কাশিয়াডাঙ্গা খোদাবক্সের জমির পাশে ইটের সোলিংয়ের মুখ হতে বদরউদ্দীন মাস্টারের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা সংস্কারে ৬.২০০ মেট্রিক টন গম। পাকুড়িয়া শামসুদ্দীন মেম্বরের বাড়ি হতে বাওড় অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা সংস্কার ও ইটের সোলিংয়ে ৮ মেট্রিক টন চাল, পাকুড়িয়া কালি মন্দির হতে সামাদের বাড়ি অভিমুখে মাটি দিয়ে সংস্কার ও ইটের
সোলিংকরণে ২ লাখ টাকার কোন কাজ হয়নি বলে এলাকার আমিরুল, আশরাফ,  ছহিলুদ্দীন ও বদরউদ্দীন অভিযোগ করেন। তবে অবশিষ্ট ১০ প্রকল্পে দায়সারা কাজ হয়েছে। প্রকল্পগুলোর সভাপতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মফে ও আ’লীগ নেতা আব্দুল মান্নান জানান, অন্য ইউনিয়নের তুলনায় তারা ভাল কাজ করেছেন। উপজেলার ১২ নং যুগিখালী ইউনিয়নে ২২টি প্রকল্পের মধ্যে ওফাপুর
মাঠপাড়া কার্পেটিং রাস্তার মুখ হতে গাজি পাড়া অভিমুখে রাস্তা মাটি দিয়ে সংস্কারে ২ লাখ ৩১ হাজার ৭০০ টাকা, ওফাপুর শাহাজান মেম্বরের বাড়ির মোড় ঋষিপাড়া অভিমুখে ইটের সোলিং রাস্তা সংস্কার ও রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাটে ৪.৯০০ মেট্রিক টন চাল, যুগিখালী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কার ও রং করণে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকার কোন কাজ হয়নি বলে এলাকাবাসি জানান। তবে এসব প্রকল্পের সভাপতি মফিজুল, শাহাজান মেম্বর বলেন, প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেনা। সদ্য বদলী হওয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বর্তমানে ঝিনাইদহ কালিগঞ্জে কর্মরত সুলতানা জাহান বলেন, যে প্রকল্প চলে গেছে তা নিয়ে আবার ঘাঁটাঘাঁটি করে কোনো লাভ আছে? বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পিআইও ওবাইদুল হক বলেন, এখানে আমি নতুন এসেছি। আমি কিছু বলতে পারবো না। আমার সময়ে যেসব প্রকল্পের বিল ছাড়া হয়েছে সেগুলো দেখে শুনে বিল ছাড়া হয়েছে। সদ্য বদলী হওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমানে নড়াইলের এডিসি জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার সময়ে কাজ দেখে প্রকল্পের বিল ছাড়া হয়েছে। পরের প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারবো না। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুলি বিশ্বাস বলেন, লিখিত ভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন। দেখে এসে আমি বক্তব্য দেব। এর আগে নয়। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, আমি শুনেছি টিআর-কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এ গুলো দেখে বিল দেওয়ার দায়িত্ব পিআইও ও ইউএনও সাহেবের। তবে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ