কপিলমুনিকে পৌরসভা গঠনের কার্যক্রম শুরু

কপিলমুনিকে পৌরসভা গঠনের কার্যক্রম শুরু

প্রবীর জয়, কপিলমুনিঃ

খুলনা জেলা পাইকগাছা উপজেলায় আরো একটি পৌরসভা গঠনের কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। উপজেলার কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয় থেকে খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি প্রেরন করেছে। সোমবার (২৩ নভেম্বর) এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯ এর ৩ ও ৪ নং ধারা অনুযায়ী পাইকগাছা উপজেলাধীন বিনোদগঞ্জ পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে বিস্তারিত তথ্যসহ প্রয়োজনীয় মতামত প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। চিঠিতে পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত এলাকার সুস্পষ্ট তফশীল, এলাকার জনসংখ্যা, স্থানীয় মানুষের আয়ের উৎস্য ও অকৃষি কাজে নিয়োজিত জনসংখ্যার হারসহ অন্যান্য তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শতবর্ষ আগে বিংশ শতকের গোড়ার দিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু কপিলমুনিবাসীর সার্বিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তুলেছিলেন বিভিন্ন জনহিতকর সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে তার একক প্রচেষ্টায় সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনাসহ গড়ে তোলেন বিনোদগঞ্জ বাজার। যা ক্রমান্বয়ে রুপ নেয় দক্ষিণ খুলনার অন্যতম প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কপিলমুনিস্থ রায় সাহেবের সুরম্য বাড়িটি দখল করে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকাররা গড়ে তোলে দেশের অন্যতম প্রধান রাজাকার ঘাঁটি। চুড়ান্ত যুদ্ধ জয়ের শেষ ভাগে ৯ ডিসেম্বর দীর্ঘ যুদ্ধের পর জয়ের ইতিহাস ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর ১৫৬ জন যুদ্ধাপরাধীকে জনতার রায়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে কপিলমুনির। আধুনিক কপিলমুনির স্বপ্নদ্রষ্টা রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর স্বপরিবারে ভারতে পাড়ি জমানো ও পরে জীবণাবসানের পর নানান বাস্তবতায় তার উদ্যোগগুলো প্রায় চরমভাবে বাঁধাগ্রস্থ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় নতুন প্রজন্ম, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কপিলমুনির পুরানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। সকল ধরনের নাগরি সুযোগ-সুবিধাসহ সুন্দর আগামীর কপিলমুনি গড়তে আগামী শতবর্ষের জন্য একটি মাস্টার প্লান (কর্মপরিকল্পনা) তৈরির প্রস্তাবনা রয়েছে তাদের। যার ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কপিলমুনিকে পৌরসভায় রূপান্তর করার দাবি তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সাংবাদিক নিখিল ভদ্র। বিভিন্ন সময় গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।   এব্যাপারে সাংবাদিক নিখিল ভদ্র বলছিলেন, অবহেলিত জনপদের অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র কপিলমুনির উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ের লক্ষ্যে স্থানীয় সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গত ১৫ নভেম্বর কপিলমুনিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওই উপজেলার কৃতি সন্তান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব তপন কান্তি ঘোষ। সেখানে বিভিন্ন দাবির সঙ্গে পৌরসভা গঠনের দাবি উঠে আসে। সচিব মহোদয় ওই সকল দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। যার অংশ হিসেবে পৌরসভা গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু প্রতিষ্ঠিত ভরতচন্দ্র হাসপাতালটি স্বনামে ফিরিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু ও সচিব তপন কান্তি ঘোষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিখিল ভদ্র আরো বলেন, এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেন। বিশেষ করে ঐতিহাসিক যুদ্ধক্ষেত্র কপিলমুনির উন্নয়নে সংসদের ভিতরে-বাইরে ভূমিকা রাখছেন। যুদ্ধক্ষেত্রটি সংরক্ষণ ও সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ ও বীরাঙ্গনা গুরুদাসির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ে এমপি ও সচিব মহোদয় ভূমিকা রাখছেন। কপিলমুনিসহ ওই এলাকাকে ঘিরে পর্যটন জোন গড়ে তোলা ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। ওই সকল কার্যক্রম এলাকার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন