HEADLINE
সাতক্ষীরার পর এবার মাগুরার সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ! কলারোয়ায় এক কৃষকের ঝু’ল’ন্ত লা’শ উ’দ্ধা’র কলারোয়ায় স্বামীর পুরুষা’ঙ্গ কে’টে দ্বিতীয় স্ত্রী’র আ’ত্ম’হ’ত্যা কলারোয়ায় স্বামীর পুরুষা’ঙ্গ কে’টে দ্বিতীয় স্ত্রী’র আ’ত্ম’হ’ত্যা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন : বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ ৫ দিন পর ভোমরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু দেবহাটায় পাল্টাপাল্টি মারপিটে ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি সহ আহত ৫ সাতক্ষীরা সীমান্তে নয়টি স্বর্ণের বার’সহ চোরাকারবারি আটক সাতক্ষীরায় চেতনানাশক স্প্রে করে দুই পরিবারের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট আশাশুনির কোপাত বাহিনীর প্রধান কারাগারে
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

কংক্রিটের খুঁটিতে বাঁশ জুড়ে ব্রীজ নির্মাণ, দুই নম্বর ইটে রাস্তা করছে এলজিইডি

রিপোটারের নাম / ১৭৫
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০২৩

মাহমুদুল হাসান শাওন, দেবহাটা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় এলজিইডি’র উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে নয়-ছয় হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। কংক্রিটের খুঁটিতে বাঁশ জোড়া দিয়ে জনসাধারণের পারাপারের ব্রীজ, আর নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করে চলছে একের পর এক সড়ক নির্মান। সীমাহীন এ দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়য়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করলে তাতে কর্ণপাত তো দূরেই থাক, উল্টো দূর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের পক্ষে সাফাই গান তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডি’র সরকারি অফিসাররা। এলজিইডি’র কতিপয় অফিসারের ঘুষ বানিজ্য, দুর্নীতি পারায়নতায় দিনের পর দিন এমন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলতে থাকায় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত ও প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য তো বাস্তবায়িত হচ্ছেইনা, উল্টো দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির দায়ে রাতদিন সাধারণ মানুষ দোষারোপ করছেন সরকারকে।
শুক্রবার দেবহাটার প্রত্যন্ত এলাকা গুলোতে এলজিইডি’র বেশ কয়েকটি বাস্তবায়নাধীন ও সদ্য বাস্তবায়িত প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে গণমাধ্যমের ক্যামেরায় উঠে এসেছে চরম অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি-অনিয়মের চিত্র। পরিদর্শনের শুরুতে দেবহাটার সদর ও সখিপুর ইউনিয়নের কুড়ুলডাঙ্গায় এক কোটি বাইশ লাখ বত্রিশ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন কার্পেটিং রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়মের সত্যতা মেলে। ওই রাস্তা নির্মানে অতি নিন্মমানের নির্মান সামগ্রীর ব্যবহার দেখা গেছে। রাস্তাটি নির্মান করছেন পটুয়াখালীর সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানের মালিকানাধীন ট্রেডভক্স ইন্টারন্যাশনাল ঢাকা নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তা নির্মানের শুরুতে বালু ভরাট করে তা একাধিকবার পানিতে ভেজানো এবং রোলার করার বাধ্যতামুলোক নির্দেশনা থাকলেও তা করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া রাস্তা নির্মানে যে ইটের ব্যবহার করা হচ্ছে তাও অতি নিন্মমানের। কিছুদিন আগে নিন্মমানের ওই ইট ব্যবহারের কারনে কাজটি বন্ধ করে দেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও সেই নিন্মমানের ইট রাস্তার নির্মান কাজে দেদারছে ব্যবহার করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে ঘলঘলিয়ায় বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা কর্মসূচি (এডিপি)র আওতায় নিমানাধীন একটি পুকুরের প্যালাসাইডিং কাজ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় একই অবস্থা। এক লক্ষ দশ হাজার টাকা বরাদ্দে ওই প্যালাসাইডিং প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন খেজুরবাড়িয়ার আবুল কালামের মালিকানাধীন ঠিকাদারি  প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালেহা এন্টার প্রাইজ। অতি নিন্মমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে নামমাত্র নির্মান করা হয়েছে ওই পুকুরের প্যালাসাইডিং। শুধু তাই নয়, প্যালাসাইডিং ওয়ালে চতুরতার সাথে মাঝে মধ্যেই ইট ফাঁকা রেখে জানালা সাদৃশ্য করে নির্মান করা হয়েছে। আর পলিস্তারা দেয়া হয়েছে ওয়ালের এক পাশে। পরিদর্শনকালে দুর্নীতি ঢাকতে তড়িঘড়ি করে ওই প্যালাসাইডিং মাটির পরিবর্তে পাশ্ববর্তী পুকুরের কাঁদা দিয়ে তড়িঘড়ি করে ভরাট দিতে দেখা গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের। এডিপির আরেকটি প্রকল্প উপজেলার প্রত্যন্ত টিকেট গ্রামে জনসাধারণের চলাচলের জন্য বহমান খালের ওপর কাঠের ব্রীজ নির্মানেও ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সখিপুরের এ.আর সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজ। ব্রীজের কাজটি পরিদর্শনে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির সংশ্লিষ্ট অফিসারদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দারা। এসময় দেখা যায় ব্রীজের নিচে যে সকল কংক্রিটের খুুঁটিগুলো স্থাপন করা হয়েছে তা নিন্মমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এসকল খুঁটি উচ্চতায় ছোট হওয়ায় তাতে বাঁশের টুকরো জুড়ে ব্রীজের পাটাতনের সাথে টানা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ব্রীজটি নির্মানে যেসব কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে তাও অপরিপক্ক ও নিন্মমানের। এসময় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নির্মান কাজটি চলার সময় দুর্নীতি অনিয়মের ব্যাপারে স্থানীয়রা এলজিইডির দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট অফিসারদের বারবার জানান। কিন্তু তাতে কর্নপাত না করে উল্টো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাফাই গান এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন সময়ে এধরনের প্রকল্পে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ করে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শোভন সরকার সহ সংশ্লিস্টদের থেকে তেমন কোন সাড়া পায়নি ভুক্তভোগীরা। উপজেলাকে দুর্নীতিমুক্ত এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের সুষ্ঠ বাস্তবায়ন নিশ্চিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ