আশাশুনিতে ভারতীয় নাগরিককে দ্বাতা সাজিয়ে জমি ক্রয়ের অভিযোগ

আশাশুনিতে ভারতীয় নাগরিককে দ্বাতা সাজিয়ে জমি ক্রয়ের অভিযোগ

জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি: দীর্ঘ ৪০/৪৫ বছর বাংলাদেশে থাকেননা, ভারতীয় নাগরিক হিসাবে বসবাসকারী শুকুমার ঢালীর পরিচয়ে অন্য কাউকে দ্বাতা সাজিয়ে জমি রেজিষ্ট্রী দলিল সম্পাদনের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) পদক্ষেপ গ্রহন করলেও অজ্ঞাত কারনে শেষ হয়নি। এলাকাবাসী বিষয়টি পুনঃ তদন্ত শেষে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের মৃত বীরেন্দ্র নাথ ঢালীর ৩ পুত্র শুকুমার ঢালী, সত্যরঞ্জন ঢালী ও চিত্তরঞ্জন ঢালী। শুকুমার ঢালী অনুমান ৪০/৪৫ বছর পূর্বে ছোট বয়সে ভারতে চলে যায়। এজন্য বাংলাদেশের কোন ভোটার তালিকায় তার নাম সন্নিবেশিত হয়নি। বরং ভারতের ভোটার তালিকায় তার ও সন্তানদের নাম রয়েছে। নির্বাচক তালিকা-২০১৭, রাজ্য (এস ২৪) পশ্চিমবঙ্গ, খগড়া প্রকাশনার তারিখ ০৭-০৯-২০১৬ ও বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন- ২০১৭ তালিকায় (৯৩ হরিণঘাটা (তপশীলি জাতি) বিধানসভা নির্বাচন ক্ষেত্র ভোটার নং ২৩৭ (সুকুমার রায়- পদনী ঢালী পরিবর্তন করে রায় করেছে), কন্যা বিনু রায় ভোটার নং ২৩৮ ও পুত্র বিপ্লব রায় ভোটার নং ২৩৯। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহ নেওয়াজ ডালিম ওয়ারেশ কায়েম সনদে সুকুমার ভারতে বসবাস করেন এবং প্রত্যয়র পত্রে সুকুমার আনুমানিক ৩০ বছরের উর্দ্ধে ভারতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন, বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় তার নাম নেই। গ্রামে তার কোন বাড়িঘর নাই মর্মে উল্লেখ করেছেন। আশ্চার্যজনক হলেও সত্য, ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশী বানিয়ে তার পরিবর্তে বা অন্য কোন উপায়ে গত ০৯/০৪/২০১৫ তাং আশাশুনি সাব রেজিষ্ট্রী অফিসে গোপনে গোপনে ১২৭২ নং কোবালা দলিল সম্পাদন করা হয়। বিষয়টি তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) দেবাশীষ চৌধুরীর কাছে অভিযোগ হলে তিনি বীরেন্দ্র নাথ ঢালীর সন্তানদের নোটিশ করেন এবং ভারতে বসবাসকারীর জমি পরিত্যাক্ত জমি হিসাবে ৯২সি ধারামতে খাসযোগ্য মর্মে উল্লেখ করেন। একই সাথে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খাজরাকে সম্পত্তির তথ্যাদি প্রেরনের আদেশ করেন। ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভ‚মি সহকারী কর্মকর্তা সঞ্জয় রায় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রদান করেন, যাতে অভিযুক্ত সুকুমার ঢালী ৩৫/৪০ বছর পূর্বে দেশ ত্যাগকরে ভারতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন। এদেশে কখনো ফিরে আসেনি। এদেশের ভোটার তালিকায় তার নাম যাওয়া যায়না। ৯/৪/১৫ তাং ১২৭২ নং কোবালা দলিলের দাতা হিসাবে শুকুমার ঢালীর নাম দেখা যায়। — তার পক্ষে — দলিল সম্পাদন করা অসম্ভব। ভ‚য়া লোক সাজিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। — নামপত্তন ছাড়াই দলিল রেজিষ্ট্রী করা হয়েছে। যাহা রেজিস্ট্রী আইনের পরিপন্থি সুতরাং দলিলটি রেজিস্ট্রী হলেও আইন সংগত নয় উল্লেখ করে পরিত্যাক্ত সম্পত্তি হিসাবে ৯২সি ধারামতে খাসযোগ্য বলে মতামত দিয়েছেন। মৃত বীরেন্দ্র ঢালী ও তার ওয়ারেশদের প্রতিবেশী মনোরঞ্জন ঢালী, তপন কুমার ঢালী, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, রুহুল আমিনসহ গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, অনুমান ৪০/৪৫ বছর পূর্বে সুুকুমার ভারতে চলে যায়, সেখানে সে স্থায়ী বসবাস করাকালীন কয়েক মাস পূর্বে মারা গেছে। সে বাংলাদেশের ভোটার ছিলনা, বসবাস করতো না। কেউ কেউ বলেন, তাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছর, কিন্তু তারা কখনো তাকে দেখেননি।

ভারতীয় নাগরিক, এদেশ ছেড়ে দীর্ঘ ৪০/৪৫ বছর ভারতে বসবাসকারী, সেখানের ভোটার ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে স্থায়ী বসবাসকারী কিভাবে এদেশে এসে নামপত্তন ব্যতীত জমি রেজিষ্ট্রী করে দিতে পারে। বরং কোন না কোন ষড়যন্ত্রকারী ও সম্পদলোভিরা অবৈধ পন্থায় অবৈধ কাজটি সম্পাদন করিয়েছে। এব্যাপারে যথাযথ তদন্তপূর্বক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সচেতন মহল উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন