HEADLINE
পরীক্ষার সময় পরিবহন চলা নিয়ে নিশ্চিত নয় জবির পরিবহন পুল উপকূলে সংকট বাড়ছে, সংকট সমাধানে প্রয়োজন সুপেয় পানি সহ টেকসই বেড়িবাঁধ খলিশাখালিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, প্রশাসনের সহযোগীতা চান ভূমিহীনরা একটি ছবি হয়ে উঠেছে আদর্শ ও অনুপ্রেরণা উৎস : তথ্য প্রতিমন্ত্রী খুলনায় ইউপি ভবন থেকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার ৩ আশাশুনিতে পারস্পরিক শিখন প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর বল্লীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা কেশবপুরের বিল খুকশিয়ায় মাছের ঘেরের বেড়িতে তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য সাতক্ষীরা রেঞ্জের অভয়ারণ্য থেকে ৩ জেলেসহ মাছ ধরা ট্রলার আটক অসহায় মানুষের পাশে “আল নূর” পরিবার
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

আশাশুনিতে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে এজেন্ট লাপাত্তা

জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি / ৩২৯
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়াস্থ ডাচ-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ব্যাংকের এজেন্ট মহিব উল্লাহ মিন্টু আত্মগোপন করেছেন। প্রতারনার শিকার শত শত গ্রাহক ও ডিপোজিতকারী টাকা উদ্ধারে ব্যাংকের সামনে গিয়ে ব্যাংক বন্ধ দেখে হতাশ হয়ে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে।


হিজলিয়া গ্রামের মহিব উল্লাহ মিন্টু “মিন্টু টেলিকম’ নামে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা শুরু করেন। ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ব্যাংক উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে ব্যাংকে গ্রাহক সংখ্যা ১২/১৩ শত। গ্রাহকরা এখানে লক্ষ লক্ষ টাকা সঞ্চয় জমা দিয়েছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত ৩৯ জন বিভিন্ন মেয়াদে স্থায়ী আমানত হিসাবে ২৯ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা জমা করেছেন। ব্যাংকের মালিক পিন্টু ব্যাংক পরিচালনার জন্য টেইলার পদে মমতাজ পারভিনকে, সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা জামানত নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া ম্যানেজার সুকান্তকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে, অন্য অফিসার ও পিওন নাজমুছ সাকিবকে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে, জোবায়ের হোসেনকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে, শিউলিকে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে ও প্রশান্তকে ১ লক্ষ টাকা জামানত নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া কলিমাখালী গ্রামের রিপন হোসেনকে ম্যানেজার পদে চাকরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২ লখ্ষ ২৭ হাজার টাকা ও হামিদা খাতুনকে অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে দেড় লক্ষ টাকা জামানত নিয়েও তাদের চাকুরি দেওয়া হয়নি।
আশ্চার্যের বিষয় হলো, এখানে গ্রাহক বা ডিপোজিতকারীদের টাকা রশিদের মাধ্যমে গ্রহন করা হলেও টাকা গ্রাহকদের একাউন্টে জমা করা হয়নি। তাদের মোবাইলে কোন ম্যাসেজও দেওয়া হয়নি। বরং দিন শেষে মালিক মিন্টু ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংক চালানোর জন্য কিছু টাকা ব্যাংকে রেখে বাকী টাকা নিজেই নিয়ে এসেছেন। এসব টাকা স্বত্ত¡াধিকারী মহিবউল্লাহ মিন্টু ও টেইলার মমতাজ পারভিনের যৌথ একাউন্টে রাখা হতো বলে জানাগেছে। তবে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে যে কোন একজনের আঙ্গুলের ছাপে টাকা উঠানো হত।

এব্যাপারে টেইলার মমতাজ পারভিন জানান, মহিবউল্লাহ প্রতিদিন হিসাব খাতায় লিখে ব্যাংকে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা রেখে এবং টাকা গ্রাহকদের ও ডিপোজিতকারীদের একাউন্টে জমা না রেখে বাকী টাকা নিয়ে যেতেন। তার (মমতাজের) একাউন্টে বর্তমানে ২ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৬৯ টাকা জমা রয়েছে বলে তিনি জানান। ব্যাংকের অন্যরা ও ডিপোজিত কারীদের মধ্যে শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় শিশু কার্ড এর ৮ মাসের টাকা ৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান। ব্যাংকে নগদ ক্যাশ লক্ষাধিক টাকা আছে বলে তারা জানান। আরেক আমানতকারী নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সভাপতি ও জমিদাতা মথুরানন মন্ডল জানান, ক্লিনিকের কাজের জামানতের ১০ হাজার টাকা মহিলা মেম্বার তহমিনা জ্য়োার্দ্দার জমা দেন ব্যাংকে। কিন্তু তারও কোন ম্যাসেজ তারা পাননি।

একই মালিক ডাচ-বাংলা ব্যাংক তালতলা বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং এর অফিস একই বিল্ডিং এর অন্য কক্ষে এনে কাজ করে আসছেন। এখানে ৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টেইলার পদে রোজিনা আক্তার (জামানত নেওয়া হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা), ম্যানেজার পদে বিপুল সানা (জামানত ৫ লক্ষ টাকা), ওআরও পদে মারুফুল ইসলাম (জামানত ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা), পিয়ন পদে আলামিন হোসেনকে নিয়োগ দিয়ে জামানত নেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ইরানী নামে একজন সহকারী ম্যানেজারও আছে বলে জানাগেছে।

এজেন্ট ব্যাংকের টেইলার মমতাজ বেগমসহ অন্যরা জানান, সাতক্ষীরা থেকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এস এস এম, এবি মোঃ মোরশেদ আলম গত ১৬ আগষ্ট ব্যাংকে এসেছিলেন এবং তিনি এফডিআর বাবদ নগদ টাকা নিয়ে গ্রাহকের একাইন্টে জমা না করার কারনে ৩ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়ে যান। এরপর থেকে ব্যাংক বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

এব্যাপারে এসএসএম, এবি মোরশেদ আলম জানান, আমি ভিজিট করেছি, ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন করেছি। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ ও মোবাইলে অনেকের সাথে কথা বলেছি। অনিয়ম ধরা পড়ার পর মিন্টুকে ডাকার পর টাকা জমা দিয়েছে। কোন সমস্যা থেকে থাকলে জানলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সে ব্যাংককে ব্যবহার করার চেষ্টা করে অনৈতিক কিছু করে থাকলে তার দায় তাকেই নিতে হবে। এজন্য ব্যাংকের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ