বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৫২ অপরাহ্ন

আলোর পথে বাংলাদেশ

লেখকঃশ্যামল শীল / ২৬
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ নভেম্বর, ২০২১

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার। গত ১০ বছরে দেশ অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়েছে। মানুষ বর্তমানে শান্তিতে আছে, স্বস্তিতে আছে। আর এসব সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের ফলে। তিনিই একমাত্র নেত্রী যিনি এ দেশের মানুষকে উন্নয়ন দিয়েছেন, বিশ্বে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় আসীন হয়েছে। কমনওয়েলথ সম্মেলনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নেতার কাতারে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সম্মান বাঙালি জাতির সম্মান, বাংলাদেশের সম্মান। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে দেশে লুটপাট ও সন্ত্রাস বেড়ে যায়, দেশ জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলে দেশ উন্নয়নের দিকে ধাবিত হয়, দেশের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

দেশের মানুষ এখন নেতিবাচক রাজনীতি সমর্থন করে না। সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা বা অসাংবিধানিক সরকারের হাতে ক্ষমতা দেওয়া মানুষ সমর্থন করে না। দেশে এখন হরতাল হয় না। মানুষকে নেতিবাচক রাজনীতি থেকে ফিরিয়ে আনা শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন, বড় সফলতা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অংশগ্রহণ না করে দেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল, আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েছিল দেশের মানুষ এ কথা আজও ভোলেনি। আর সাধারণ মানুষ ৩০ ডিসেম্বর ভোটের মাধ্যমে তাদের আবারও সমুচিত জবাবও দিয়েছে।

গত ১০ বছরের উন্নয়নের ভিত্তিতে দেশের মানুষ আমাদের আবারও বিজয়ী করেছে। কারণ দেশের মানুষ সংঘাত চায় না, সন্ত্রাস চায় না। জঙ্গিবাদের উত্থান চায় না। দেশবাসী উন্নয়ন চায়, শান্তি ও স্বস্তি চায়। যারা দেশের উন্নয়নে বিশ্বাস করে তারাই আমাদের আবার সর্বশেষ নির্বাচনে বিজয়ী করেছে। বিএনপির সময় হাওয়া ভবনের রাজত্ব দেখেছিল মানুষ। অন্ধকার ও লোডশেডিং ছিল। মানুষের নিরাপত্তা ছিল না। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। বর্তমান সরকারের সময়ে অন্যায় বা দুর্নীতি করলে শেখ হাসিনা কাউকেই ছাড় দেননি।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কিছু নেতার অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ড কিংবা স্বেচ্ছাচারিতা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। এটাকে পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী কঠোরভাবেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। অপরাধ করে কেউই পার পাচ্ছেন না। কাউকেই ছাড়া হচ্ছে না। দেশের সর্বস্তরের মানুষের বিবেচনায় অসাম্প্রদায়িকতা, শান্তি, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একমাত্র আওয়ামী লীগই পরীক্ষিত রাজনৈতিক শক্তি। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বিকল্প আওয়ামী লীগ। বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধীদের পাশাপাশি জঙ্গি অপশক্তিকে লালন-পালন করে বলেই মানুষ তাদের কাছে কিছু আশা করে না। মানুষ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমরা মানুষের আস্থা আমরা অর্জন করতে পেরেছি। ফলে জনগণ আবারও শেখ হাসিনাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।

২০১৪ সালের নির্বাচন ভণ্ডুল করতে অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য কথিত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও জ্বালাও-পোড়াও করছিল বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের চিহ্নিত খুনিদের রক্ষার জন্য বিএনপির ওপর ভর করেছিল। জনরায়ে ক্ষমতায় আসার বেলায় আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর জন্য ভয়াবহ চক্রান্তেও লিপ্ত ছিল তারা। ওরা জানত, সুষ্ঠু নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ। আর সেটা হলে দণ্ডিত খুনিদের রায় কার্যকর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই তারা অসাংবিধানিক সরকার চেয়েছিল। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তথাকথিত অবরোধের নামে জনগণের সম্পদ ধ্বংস করেছিল। সেই অবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না সরকারের সামনে। সরকার ওই চ্যালেঞ্জেও জয় পেয়েছে।

বর্তমানে শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। যোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যানজট নিরসনে একের পর এক ফ্লাইওভার নির্মাণ ও সড়ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে চলছে। র‌্যাপিড বাস ট্রানজিটের কাজও চলছে। সারাদেশের গ্রামগঞ্জের মানুষ এখন সড়ক ব্যবহার করতে পারে। বর্তমানে প্রবৃদ্ধির হারও অনেক বেড়েছে। শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। যুগোপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। দেশ পোলিও ও ধনুষ্টংকার মুক্ত হয়েছে। সরকারিভাবে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও গ্রামগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সফলতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। শাকসবজি থেকে শুরু করে ফলমূল সব ধরনের সবজি এখন উৎপন্ন হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি অনেক চাঙ্গা হয়েছে। সমুদ্র জয় হয়েছে। আরেকটি বড় সফলতা শিল্প-কারখানা নির্মাণ ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা। বাংলাদেশ এখন শতভাগ ওষুধ উৎপাদন করছে। আমাদের উৎপাদিত ওষুধ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ১৩৬টি দেশে রফতানি হচ্ছে। টেক্সটাইল ও জুট সেক্টরেও বিরাট পরিবর্তন এসেছে। এত সব উন্নয়ন শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণেই সম্ভব হয়েছে।

‘৭১-এর ঘাতক ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার সরকারের আরেকটি বড় সফলতা। ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডসহ অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। বিচার না পাওয়ার সংস্কৃতি থেকে মানুষ বেরিয়ে আসছে। সরকারের আরেকটি বড় সফলতা হচ্ছে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান যখন জঙ্গি দমনে ব্যর্থ, তখন শেখ হাসিনা সরকার সফল হয়েছে। এখন মানুষ বিশ্বাস করে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আমলে জঙ্গি উত্থান সম্ভব নয়।

ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত অনেক সমস্যার সমাধান করেছি। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির সাফল্যের বিষয়েও আমরা আশাবাদী। ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের পরিমণ্ডলে পদস্থ দেশগুলোর সঙ্গে এই সরকারের আমলে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সমতাভিত্তিক সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

মানবিক কারণেই আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। কিন্তু এই রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে অশুভ শক্তির চক্রান্ত চলছে বর্তমানে। রোহিঙ্গা নিয়ে যারা চক্রান্ত করছেন তাদের প্রতি আহ্বান, তারা এই চক্রান্ত বন্ধ করবেন। রোহিঙ্গা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়। আমরা সারা দুনিয়ার কাছে আবেদন জানাই মিয়ানমার যাতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়, সে জন্য চাপ সৃষ্টি করতে এবং পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। এই প্রশ্নে কোনো রাজনীতি নয়, কোনো দলবাজি নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি গণতান্ত্রিক সরকার ধারাবাহিকভাবে দেশ পরিচালনা করছে। যার সুফল এখন পাচ্ছে দেশের মানুষ। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আলোর পথেই ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ।
লেখকঃশিক্ষার্থী,ইতিহাস বিভাগ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ